1. admin@newswatchbd.com : admin :
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

ফাঁদে ফেলে মার্কিন তরুনীর নগ্ন ছবি সংগ্রহ, যুবক গ্রেফতার

খুলনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৩

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার অন্তত ৩০ কিশোরীর ১৬৪টি পর্নো ছবি পাওয়া গেছে সামির নামের এক তরুণের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপে। তার বাড়ি খুলনায়। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তদন্তের পর খুলনা থেকে এ তরুণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোঃ সামির (২০) নামের ওই তরুণ অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপ ডিসকর্ডে এসব কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর ফাঁদে ফেলে তাঁদের নগ্ন ছবি সংগ্রহ করেছেন।

নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার নিউমার্কেট এলাকার ছেলে সামির রাজশাহীর একটি প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ২১ আগস্ট তাঁর বাসা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা । পরে আদালতের অনুমতিতে তাঁকে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

রিমান্ডে সামির জানায়, এসব ছবি সংগ্রহে রাখা তার শখ ছিল। এগুলো তিনি বেচাকেনা করতেন না। আদালতের নির্দেশে শনিবার সামিরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামির অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপ ডিসকর্ডে এসব কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর ফাঁদে ফেলে তাদের নগ্ন ছবি সংগ্রহ করেন।

সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানান, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মাইকেল লি গত ২৬ জুলাই গুলশান থানায় একটি জিডি করেন। তাতে অভিযোগ করা হয়, সামির পরিচয়ে বাংলাদেশের এক নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে প্রলুব্ধ করে তাকে দিয়ে তার পর্নো ছবি তুলে নিয়েছেন। ডিসকর্ড অ্যাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ওই কিশোরীর সঙ্গে সামিরের যোগাযোগ ও সম্পর্ক হয়। পরে তিনি ওই অ্যাপ এবং তাঁর ই-মেইলে কিশোরীর তোলা পর্নো ছবি নিয়ে নেন। কিশোরীর মায়ের যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান থানায় ওই জিডি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তা মাইকেল লি। ডিএমপি কমিশনার সিটিটিসিকে জিডি তদন্তের দায়িত্ব দেন।
জিডির তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে তাঁরা সামির সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান। এরপর ২১ আগস্ট মার্কিন দূতাবাসের লি বাদী হয়ে মোঃ সামিরকে আসামি করে গুলশান থানায় ২০১২ সালের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। এরপর সামিরের অবস্থান শনাক্ত করে খুলনার সোনাডাঙ্গার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে ই-মেইল করা হয়। জবাবে দূতাবাসের মুখপাত্র ব্রায়ান শিলার বলেছেন, ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত চলতে থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।

মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা মাইকেল লির করা মামলায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গত মার্চ মাসে ডিসকর্ড অ্যাপে ক্যালিফোর্নিয়ার ওই কিশোরীর সঙ্গে সামিরের বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্বের একপর্যায়ে সামির কিশোরীর পর্নো ছবি তার কাছ থেকে চেয়ে নেন। এছাড়া কিশোরীকে ওয়েব ক্যামেরার সামনে এনে তার বিবস্ত্র ছবি তুলে নেন সামির। পরে কিশোরী সামিরের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তবে সামির বিভিন্ন ভাবে ওই কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন।
সামিরের মুঠোফোন ও ল্যাপটপের পরীক্ষা করেন সিটিটিসির ফরেনসিক ল্যাবের এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, সামিরের মুঠোফোনে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার অন্তত ৩০ কিশোরীর ১৬৪টি পর্নো ছবি পাওয়া গেছে।

সামির ২০২১ সালে রাজশাহীর একটি প্রকৌশল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও করোনার কারণে আর ক্লাস করেননি বলে জানান সিটিটিসি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সামির স¤প্রতি অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মা-বাবা তাঁকে বাইরে কোথাও যেতে দিতেন না। একাকিত্বের কারণে তাঁর মুঠোফোনে আসক্তি তৈরি হয়। সেই থেকে বিকৃত মানসিকতা গড়ে ওঠে এই তরুণের।

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নিউজ ওয়াচ বিডি
প্রযুক্তি সহায়তায় Shakil IT Park