সরকারি চাকরি কারো কারো কাছে যেন সোনার হরিণ। আর এই সোনার হরিণ হাতে পাওয়ার পরে বদলে যায় অনেকের ভাগ্যের চাকা। তেমনি একজন কর্মকর্তা এনবিআরের আব্দুল্লাহ শাওন। মাত্র তিন বছরের কিছু সময় বেশি চাকরিজীবন, অথচ এরই মধ্যে নিজ গ্রামে প্রায় এক কোটি টাকার ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মানাধীন। এনবিআর-এর ভ্যাট পলিসি শাখার একজন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শাওন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত এই কর্মকর্তা কীভাবে এত অল্প সময়ে বিপুল অর্থের মালিক হলেন এ নিয়ে তার নিজ এলাকায় হচ্ছে আলোচনা সমালোচনা।
সরেজমিনে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার হাসনাহাটি লস্করদিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় একটি আধুনিক ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণাধীন। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে ইতোমধ্যে ৭০-৮০ লাখ টাকা খরচ করেছেন শাওন। ভবনটির বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি। অথচ বছর কয়েক আগেও শাওনের পরিবারের ছিল একটি ভাঙাচোরা টিনের ঘর।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, শাওনের বাবা মীর আবদুল আলীম একসময় গ্রামের একটি সিমেন্ট দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। পরে ঢাকায় গিয়ে একজন সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে চাকরি করেন তিনি। সেই টানা পরানের সংসারেই বেড়ে ওঠেন শাওন। মেধাবী ছাত্র শাওন পড়াশোনা করেন ঢাকার হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে।
তবে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে অতি কষ্টে বড় হলেও শাওন সরকারি চাকরিতে যোগদান করার পর এখন আলিশান জীবন যাপন করেন।
ভ্যাট পলিসি শাখার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, "সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কয়েক বছরের চাকরিজীবনে এত অর্থ সম্পদের মালিক হওয়া অসম্ভব। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।" যদিও পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিযুক্ত শাওনের সঙ্গে মোবাইল নম্বর এ যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দেন এবং আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
তার নিজ গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, এনবিআর-এর ভ্যাট পলিসি শাখা এমনিতেই সংবেদনশীল একটি জায়গা। অনেকে আশঙ্কা করছেন, শাওনের হঠাৎ এই বিত্তবৈভবের পেছনে রয়েছে অস্বচ্ছ উৎসের অর্থ।
স্থানীয়দের দাবি, শাওনের সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা হোক। এ বিষয়ে তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রকাশকঃ শাহিদুর রহমান
মোবাইল 01581-281810
e-mail
newswatch71@gma.com