
‘জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের হুমকি নয়। এটি এখন আমাদের মতো উপকূলীয় সম্প্রদায়গুলোর জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ মানুষরা এসব চ্যালেঞ্জ একা মোকাবিলা করতে পারবে না। সরকার, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত সহায়তা প্রয়োজন তাদের। ’ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সিম্পোজিয়াম এ কথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বৃহৎ আকারের বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী জলবায়ু সমাধানসহ উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে চলেছে, যাতে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়। কেয়ার বাংলাদেশ ও অ্যাওসেড- এর যৌথ আয়োজনে ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি অর্থায়ন ব্যবস্থায় সাব ন্যাশনাল দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক এ সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, উন্নয়ন সহযোগী, সিভিল সোসাইটি, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং কমিউনিটি প্রতিনিধিরা একত্রিত হন, যাতে উপকূলীয় বাংলাদেশের তিন বছরের সাব-ন্যাশনাল অভিজ্ঞতা ও প্রমাণভিত্তিক তথ্যকে জাতীয় ও বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন নীতির জন্য কার্যকর সুপারিশে রূপান্তর করা যায়। জার্মান দাতা সংস্থা বিএমজেড এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত মাল্টি অ্যাক্টর পার্টনারশিপ অন ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক ফাইনান্স অ্যান্ড ইন্সুরেন্স প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই সিম্পোজিয়ামের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাব ন্যাশনাল পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও তথ্য-প্রমাণকে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো।
অনুষ্ঠানে কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাম দাস বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি অর্থায়ন এবং ক্ষতি ও ক্ষয়পূরণ অর্থায়ন জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়। এই প্রক্রিয়াগুলো অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে হবে, ঋণের বোঝা তৈরি না করেই সহজলভ্য থাকতে হবে এবং জাতীয় কাঠামোর মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
জার্মান দূতাবাসের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান উলরিখ ক্লেপম্যান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ইতোমধ্যেই উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনকে বদলে দিচ্ছে। জলবায়ু অর্থায়নে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বাস্তবতাকে আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত করতে হবে, এবং বাংলাদেশের স্থানীয়ভাবে উদ্ভাবিত সমাধানগুলো বৈশ্বিক উদ্যোগের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।
কেয়ার বাংলাদেশের হিউম্যানিটারিয়ান অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ফিউচারস প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর মৃত্যুঞ্জয় দাস বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে সরকার, বেসরকারি খাত, কমিউনিটি এবং দাতা সংস্থাসহ বিভিন্ন অংশীজনকে একত্রিত করা, যাতে অর্থবহ সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে ওঠে এবং কার্যকর অর্থায়ন মডেল চালু করা সম্ভব হয়।.
আলোচনায় বিদ্যমান অর্থায়ন কাঠামো পুনর্বিন্যাসে সাব-ন্যাশনাল তথ্য-প্রমাণের ব্যবহার, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জলবায়ু বীমা সম্প্রসারণে জেন্ডার-সংবেদনশীল তথ্যের ভূমিকা এবং স্থানীয় সিডিআরএফআই উদ্যোগকে বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু নীতিমালার সঙ্গে সংযুক্ত করার সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রকাশকঃ শাহিদুর রহমান
মোবাইল 01581-281810
e-mail
newswatch71@gma.com