ডিজিসহ তিন ক্ষমতাধর ব্যক্তির হাতে জিম্মি পুরো প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তাদের একজন মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ আবু সুফিয়ান, যিনি বিগত সতের বছর যাবত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে চাকরি করেছেন। পরবর্তীতে এনসিপি এবং জামাতের ডিগুলেটরে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পান। আরেক বিশেষ সুবিধাবাদি পরিচালক প্রশাসন ডাঃ বয়জার রহমান এবং তার স্ত্রী বিগত ১৭ বছর ঢাকার বিভিন্ন পোল্টে চাকরি করেছেন। ১৯৮৭-৮৮ সেশনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটোনারি অনুষদে ভর্তি হয়ে তিনি জোরেসোরে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতা এলে তিনি বিএনপিতে শিবিরের গুপ্তচর হিসেবে কাজ করতেন।
ছাত্রদলের কোন মিছিল মিটিংযে তাকে, কখনো দেখা যায়নি এমনকি তিনি হলের কোন পদে ছিলেন না। ডিএলএস এ তিনি বর্তমানে অফিসার কর্মচারীদের কাছে সর্বজন স্বীকৃত হাইব্রিট সুযোগ সন্ধানী। যেদল যখন ক্ষমতায় তিনি তখন সেই দলের আদর্শে অনুগত ছায়া সাথি। যার প্রমান বিগত আওয়ামী লীগ আমলে তার চাকুরীর আমলনামা দেখলেই স্পষ্ট হবে। সূত্র জানায়, বর্তমানে ডিজি আবু সুফিয়ান, পরিচালক প্রশাসন ডাঃ বয়েজার এবং উপ-পরিচালক ডাঃ তারেক হোসেন মিলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে দুর্নীতির আকড়া বানিয়ে রেখেছেন।
ঐ তিন জামাতীর এতটাই দৌরাত্ব যার কারনে আজ বিএনপিপন্থী কর্মকর্তারা আজ জামাতিদের দাপটে কোনঠাসা। নিয়োগ বাণিজ্য সম্প্রতি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ৬শ কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। পরিচালক প্রশাসন এবং উপ-পরিচালক মিলে এ নিয়োগ কর্মে যেন দুর্নীতির মহরত করেছে। প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সম্মানী ভাতা নামে বেনামে নোপাটের খবর পাওয়া গেছে। দিনে একজন সদস্য প্রায় ১ লাখ টাকা করে ভাতা নিয়েছে। এছাড়া একটি বিশেষ এলাকার লোক চিহ্নিত করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।
তাদের যোগসাজসে এই নিয়োগ বানিজ্যের খবর ইতিপূর্বে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও জামাত এনসিপির প্রত্যক্ষ দাপটে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যা সুষ্ঠু তদন্ত করলেআ সত্যতা মিলবে। টেন্ডার বাণিজ্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পিপিআর ও খুরা রোগ নির্মূল ভ্যাকসিন করে ২১ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে বিভিন্ন পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলেও। এ বিষয়ে মামলা গ্রহণ করে ডিজি ও পরিচালক প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার জন্য অধিদপ্তরের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজে পত্র দেয় এবং স্ব-শরীরে এসেও তৎকালীন উপদেষ্টার কারণে কাগজ জমা দেয়নি। গত নভেম্বরে জাতীয় প্রাণীসম্পদ মেলা সম্পন্ন হয়।
এখানে ডিজি পরিচালক প্রশাসন এবং উপ-পরিচালক প্রশাসন মিলে প্রায় ৪ কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। তাদের এই কাজেদুর্নীতিতে প্রত্যক্ষ্য সহায়তা করেছে পরিচালক উৎপাদন ডঃ খালেদুজ্জামান এবং উপ-পরিচালক খামার মোঃ শরিফুল হক। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে তাদের দাপটে সাধারন অফিসাররা আজ কর্মপরিবেশ হারাতে বসেছে। বর্তমানে বিএনপি দলীয় নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকে অধিদপ্তরের স্বার্বিক বিষয়ে অবহিত করণে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এই চক্র। তবে অচিরেই এ জটিলতা নিরাসন হবে বলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করেন।
দীর্ঘদিনের বঞ্চিত কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমরা আওয়ামী দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেয়েছি সত্য, তবে গুপ্ত জামাতিদের কবলে পড়ে আমাদের অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। অবিলম্বে এ চক্রকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়ে অধিদপ্তরের দক্ষ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে না আনতে পারলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্থ হবে। তাই গুপ্ত জামাতী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে সচেতন মহল মনে করেন।
প্রকাশকঃ শাহিদুর রহমান
মোবাইল 01581-281810
e-mail
newswatch71@gma.com