জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (কর্মসংস্থান) মাসুদ রানা যেন দুর্নীতির মাস্টার। অনিয়ম, দুর্নীতি, জাল, জালীয়াতি করে কোটি কোটি টাকা অবৈধ ইনকাম করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠনের কর্মকর্তাদের ল্যাং মেরে পদ পদবী দখল করার গুরুতর অভিযোগও করেছন তার সহকর্মীরা। যদিও তার বিষয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজী হননি।
সাম্প্রতি তার বিরুদ্ধে দুদুকে অভিযোগপত্র জমা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা দুদকের অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত মাসুদ রানা বিগত সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন। তিনি তাঁর নিজের তৈরি করা পদ-পদবীতে বহাল তবিয়তে বসে আছেন এবং অঢেল-সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন।
তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর অধীন দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন। তিনি সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় ঘুষ গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ করেছেন, যা আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। জনগণের অর্থ আত্মসাৎ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর তফসিলভুক্ত অপরাধ। এটি অপরাধমূলক অসদাচরণ, যার জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৮ সালের তত্বাবধায়ক সরকার বিদায় নেয়ার পর ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএমইটিতে মাসুদ রানা হয়ে উঠেন অপতিরোধ্য। ওই সময়ের প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী, সচিব, ডিজি থেকে শুরু করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে একচ্ছত্র সবকিছু নিয়ন্ত্রনে তার বিকল্প কেউ ছিলো না বলে খোদ বিএমইটি ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয় সংশ্লিষ্টরা এক বাক্য স্বীকার করছেন। তবে মাসুদ রানা পুরো আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে সাবেক প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহিনকে ব্যবহার করে বিএমইটিতে নতুন পরিচালক পদ সৃষ্টি করার ব্যবস্থা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি তার সিনিয়র সহকর্মীদের ডিংগিয়ে পরিচালক পদ বাগিয়ে নিয়েছেন বলে প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়ের একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএমইটির এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের প্রবাসী কল্যানের সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মনিরুছ সালেহিন স্যারের বাড়ি নেত্রকোনায়। একই এলাকায় বাড়ি মাসুদ রানারও। ওই সময় মাসুদরানা ছিলেন বিএমইটির পরিসংখ্যান কর্মকর্তা। স্যারকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে সহকারী পরিচালক পদ এরপর তার কয়েকজন সিনিয়র সহকর্মীকে ডিংগিয়ে নতুন পরিচালক পদ সৃষ্টি করে ওই পদে (পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ) সে বসে পড়লো। এরপর থেকে শুরু হয় তার যত রকমের অনিয়ম ও দূর্নীতি।
তিনি আরো বলেন, শুনেছি তার বিরুদ্ধে অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা কামাই এবং নামে বেনামে সম্পদ অর্জন করার অভিযোগ দিয়েছে কে বা কারা। যারা এসব অভিযোগ দিয়েছে সেটি কিন্তু মিথ্যা না। বরং আরো বাড়তে পারে। এমনিতেও তাকে বিএমইটিতে সবাই ভিন্ন চোখে দেখে। তার টাকা কামানোর স্টাইল ও ভিন্ন। আওয়ামী লীগের আমলে বিএমইটিতে যত খাত থেকে অনিয়ম করে টাকা কামানোর সুযোগ ছিলো, সবকিছু তার নিয়ন্ত্রনেই হতো! তার সময়ে যে কজন ডিজি দায়িত্বে এসেছেন সবাই তার ইশারায় চলার চেষ্টা করতেন।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক মাসুদ রানার সঙ্গে কথা বলতে তার অফিসে গেলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।