1. admin@newswatchbd.com : admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ, বাংলাদেশের প্রতি এইচআরডব্লিউর সতর্কবার্তা ​ফুটবলের উত্তেজনায় মুখরিত কিংস অ্যারেনা: শিরোপা জিতল ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে নজিরবিহীন সাইবার চুরি শৃঙ্খলা ফেরাতে ডিএসসিসি এলাকায় ই-রিকশা নিবন্ধন শুরু মাদক নির্মূল করতে পারলেই নিরাপদ হবে বাংলাদেশ সেই দুর্নীতিবাজ জামানুর এখন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী! রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপের “RCG বর্ষপূর্তি মেলা-২০২৬”-এর শুভ উদ্বোধন হকার সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন আইসিসিবিতে বসছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির জমজমাট প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় রাজধানীর নামী-দামি শপিংমল

পরীমণির গাড়ি বিতর্ক: ‘মাসরুর’ নামের বিভ্রান্তির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

সম্প্রতি চিত্রনায়িকা তমা মির্জার এবি ব্যাংকে যোগদানকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংক ও বিনোদনজগতের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। আর সেই সঙ্গে পুরোনো পরীমণি–মাসরুর বিতর্কও আবার সামনে আসে। এ আলোচনায় সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নাম আবারও নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে। তবে পরীমণিকে বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দেওয়ার অভিযোগ তিনি শুরু থেকেই স্পষ্টত অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু দাবি এবং গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, পরীমণির গাড়ি বিতর্কে আলোচিত ‘মাসরুর’ আসলে মাসরুর আরেফিন নন; বরং তিনি খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু। খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে এবং হাসিনা-কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রাক্তন স্বামী। পুতুলের সঙ্গে তার বিয়ে ও পরবর্তীকালে বিচ্ছেদের বিষয়টি সকলের জানা।

এই সূত্র অনুযায়ী, বোট ক্লাব কাণ্ডের পরে পরীমণিকে দামি গাড়ি উপহার দেওয়া নিয়ে তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা হারুনের মন্তব্যে খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুর নামের ইঙ্গিত ছিল। সাংবাদিকদের সামনে এই রাজনৈতিক ভুলটি করার পরপরই ডিবি কর্মকর্তা হারুন মাসরুর হোসেন নামটিকে আড়াল করতে সিটি ব্যাংকের মাসরুর আরেফিনের নামটি সামনে নিয়ে আসেন। সে সময় তৎকালীন সিটি ব্যাংক চেয়ারম্যানের ভাই শওকত আজিজ রাসেলের সঙ্গে হারুনের বিবাদ তুঙ্গে। তাই সূত্র বলছে, হারুন এখানে একই সঙ্গে দুটি কাজ করেছিলেন—খন্দকার মাসরুর হোসেনকে আড়াল করা এবং এতে সিটি ব্যাংক এমডি মাসরুর আরেফিনকে জড়ানোর মাধ্যমে এই ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেলের ওপরে প্রতিশোধ নেওয়া। ঘটনার কিছু দিন আগে দুবাইয়ে খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুর সঙ্গে পরীমণির সাক্ষাতের বিষয়ে নানা আলোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা এই ঘটনা জানাজানির পর সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও মাসরুর হোসেন মিতুর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। যার জের ধরে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ওই বক্তব্যে আরও বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে এসব আলোচনা বা দাবির সত্যতা তখন স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পরীমণিকে পরবর্তী সময়ে মামলা ও অন্যান্য আইনি জটিলতায় রাখার পেছনেও প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বয়ানের সারকথা হলো—খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুকে, অর্থাৎ হাসিনা-কন্যা পুতুলের নামকে, পরীমনি নাম থেকে দূরে রাখতে গিয়ে একই নামের কারণে মাসরুর আরেফিনকে অসম্মান ও অভিযোগের মুখে ফেলা হয়।

পরীমণিকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দামের মাসেরাতি গাড়ি উপহার দেওয়ার আলোচিত গুঞ্জনে ২০২১ সালের আগস্টে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিনের নাম আসার পরে ওই সময় প্রকাশিত সংবাদে তাঁর সঙ্গে পরীমণির কথিত অডিও রেকর্ডে গাড়ি উপহারের প্রসঙ্গ থাকার দাবি করা হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের একই প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে “শওকত রুবেল” নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরীমণির ঘনিষ্ঠতার কথাও উল্লেখ করা হয়।

২০২১ সালে সংবাদ প্রকাশের পরপরই মাসরুর আরেফিন অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তিনি পরীমণি নামের কাউকে কখনো দেখেননি, তাঁর সঙ্গে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ নেই এবং তাঁর ফোন নম্বরও তাঁর কাছে থাকার প্রশ্ন আসে না। মাসরুর আরেফিন তখন বলেন, তাঁর জীবনের বড় অংশ ব্যাংকিংয়ের কাজ এবং সাহিত্যচর্চায় কাটে। তিনি কোনো ক্লাব বা পার্টিতে যান না বলেও দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ঢাকার যাঁরা ক্লাবকেন্দ্রিক সামাজিক পরিসরে চলাফেরা করেন, তাঁদের কেউ তাঁকে সেখানে দেখেছেন—এমন দাবি করতে পারবেন না।

মাসরুর আরেফিনের পোস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল সংবাদে ব্যবহৃত ব্যাংক চেয়ারম্যানের নাম। তিনি বলেন, “শওকত রুবেল” নামে সিটি ব্যাংকের কোনো চেয়ারম্যান নেই। তাঁর ধারণা ছিল, প্রতিবেদনে হয়তো ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেলের নাম ভুলভাবে লেখা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ব্যাংক চেয়ারম্যানের পরিচয় পর্যন্ত ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়ে থাকলে একই প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে তোলা গাড়ি উপহারের অভিযোগ কোন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছিল, সে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় ২৪ আগস্ট ২০২১ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক তাদের প্রথম পৃষ্ঠায় ভুল স্বীকার করে সংবাদ ছাপে, যেখানে বলা হয়: “গত ৮ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে ‘পরীমনি ও পিয়াসার সঙ্গে ২১ প্রভাবশালীর সম্পর্ক’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের এক স্থানে ভুলবশত একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নাম ছাপা হয়েছে। এ ছাড়া এ সংবাদে একই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘শওকত রুবেল’ নাম ছাপা হয়েছে। এ কথা স্বীকার করতে কার্পণ্য নেই যে, এ দুটি তথ্যই ভুল ছিল। পরীমনির ঘটনার সঙ্গে মাসরুর আরেফিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার নামটি ভুলবশত ছাপা হওয়ায় এবং তাতে করে তার ব্যক্তিমর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করছে।…সিটি ব্যাংকের এমডির মর্যাদাহানির বিষয়টি ইত্তেফাক গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং এই অনভিপ্রেত ভুলের জন্য তার ও তার পরিবারের কাছে আবারও দুঃখ প্রকাশ করছে।”

পরীমণির গাড়ি বিতর্কে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নামের বিভ্রান্তি। সংবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে মাসরুর আরেফিনের নাম এসেছে; তিনি তা অস্বীকার করেছেন, আর সূত্র বলছে ওই মাসরুর আসলে ছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রাক্তন স্বামী খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু।
##

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নিউজ ওয়াচ বিডি
প্রযুক্তি সহায়তায় নিউজ ওয়াচ বিডি