-তানভীর আলাদিন
গত ১০ জুলাই, ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, দেশজুড়ে পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখের মতো, এরমধ্যে পাস করেছে ১৩ লাখ, ফেল করেছে ৬ লাখেরও বেশি! এবার শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৪টি। শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠান ৯৮৪টি।
চমকপ্রদ বিষয়টি হচ্ছে ২০২৪ সালে শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করা কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরতেটেকিয়া মৌজা উচ্চবালিকা বিদ্যালয়টি এবার শতভাগ পাস করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অভিনন্দন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবাইকে।
আমি আশাবাদী ২০২৬ সালের পরীক্ষায় এই স্কুলকে অনুসরণ করবে কুমিল্লার নাঙ্গলকোর্টের ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়সহ শতভাগ ফেল করা বাকি ১৩৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।
ফেল করা মানেই জীবন থেমে যাওয়া নই। ঘুরে দাঁড়ানোর নামই জীবন। চলতি বছরে আমাদের দেশে এসএসসি’র এই ফেলের সংখ্যাটি (৬ লাখেরও বেশি) বিশ্বের ৭১টি দেশের এক একটির জনসংখ্যারও চেয়েও নাকি অধিক! ওই দেশগুলো যদি তাদের এই সংখ্যক জনসংখ্যা নিয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে, তাহলে আমরা থামবো কেন?
কোনো অবস্থায় আমাদের এই বিপুল সংখ্যক সন্তানদের পিঠে ‘ফেল করা’ সিলমোহরটি বসতে দেয়া যাবে না। ঘুরে দাঁড়াতেই হবে তোমাদেরকে। আর এই জন্যে অভিভাবকদের আরেকটু সচেতন হতে হবে, হতে হবে সদয়- আপনারা সন্তানের মাথায় আদরের হাত বুলিয়ে সোহাগে- মমতায় বলুন- তুমি পারবে, তোমাকে পারতেই হবে।
আর সন্তানদের বলবো- গত কয়েক ঘন্টায় হয়তো তোমরা (ফেল করার জন্যে) সামাজিক জীবনের এক ভিন্নচিত্র দেখে ফেলেছো। এই দেখাটুকুকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করো, ছেড়ে দাও কিছুকালের জন্যে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়া, ছুড়ে ফেলো হাতের মোবাইল ফোনসহ সবগুলো গেজেট। শুধূ শিক্ষকদের কথায় মন দাও।
নতুন উদ্যামে পাঠ্যবইগুলোর পাতা উল্টাও, দেখবে আগামী বছরে তোমরাই বিজয়ী। নিশ্চয়ই তোমরা বিজয়ী, তোমাদের সদিচ্ছা শক্তি তোমাদেরকে কৃতকার্য করবেই, এটি তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে আমার বাজি। এই বাজিতে আমি জিতবোই, আচ্ছা আমি যদি এই বাজিতে না জিতি, তোমরা যদি বিজয়ী না হও, তাহলে আমাদের এই দেশটাতো মুখ থুবড়ে পড়বে, তোমরাই যে আমাদের দেশের ভবিষ্যত। তাই জিত্তেই হবে আমাকে আর পাস করে বিজয়ী হতে হবে তোমাদেরকে।।
অভিনন্দন জানাচ্ছি পাস করেছে ১৩ লাখ পরীক্ষার্থীকে। তোমাদের নান্দনিক আগামীতে আরো সমৃদ্ধির পথে হাঁটুক আগামীর বাংলাদেশ। অভিনন্দন নিবিড় কর্মকারসহ পাস করাদের। নোয়াখালী জেলার সন্তান নিবিড় কর্মকার। চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিবিড় এবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ১ হাজার ২৮৫। নিবিড়ের বাবা জীবন কর্মকার গণমাধ্যমকে বলেছেন, তার ছেলে নিবিড় নিয়মিত স্কুলের দিকনির্দেশনা মেনেই পড়াশোনা করেছে। শিক্ষকেরা ছিলেন খুব আন্তরিক। ঘরে তারা শুধু খেয়াল রেখেছিলেন ওর পড়ালেখার পরিবেশটা ঠিক আছে কি না। তবে এসএসসি পরীক্ষার আগে কয়েকটি কোচিংয়ে কেবল মডেল টেস্ট দিয়েছে নিবিড়। ওর মা রিপা রায় বলেন, আমরা ওকে লেখাপড়ার জন্যে কখনো চাপ দিইনি। নিজে থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল। রচনা প্রতিযোগিতা, অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও অংশ নিত। এসব জায়গায়ও আমরা ওকে উৎসাহ দিয়েছি।
# লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
প্রকাশকঃ শাহিদুর রহমান
মোবাইল 01581-281810
e-mail
newswatch71@gma.com