
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে দফায় দফায় পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর সেখানকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সমন্বয়ককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমেদ ওরফে মোল্লা শামীমকে মারধরের পর বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় প্রক্টরিয়াল বডি। এরপর পুলিশ শামীমকে হাসপাতালে নিলে রাত সোয়া ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়করা একজনকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত সহিংসতায় অভিযোগ থাকার প্রেক্ষিতে জাবি সমন্বয়ক আহসান লাবীবকে সমন্বয়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত শেষ না হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অব্যাহতি বহাল থাকবে।
“তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সাব্যস্ত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আহ্বান জানাচ্ছে।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে কারও জন্য অপেক্ষায় ছিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম; হঠাৎ পেছন থেকে তিনজন এসে তাকে জাপটে ধরে মারধর শুরু করেন। এরপর আরও চার দফায় বেধড়ক মারধরের পর তাকে দেওয়া হয় পুলিশে।
শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।”
তার বিরুদ্ধে জমি দখলে সহায়তা ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
শামীমের মৃত্যুর পর রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তারা।
প্রকাশকঃ শাহিদুর রহমান
মোবাইল 01581-281810
e-mail
newswatch71@gma.com