1. admin@newswatchbd.com : admin :
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আইসিসিবিতে বসছে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির জমজমাট প্রদর্শনী বন্ধ হওয়ার শঙ্কায় রাজধানীর নামী-দামি শপিংমল আবাসন খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের কাছে ৫ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ প্রতি শুক্রবার আইসিসিবিতে বসছে সুপার সেল কার বাজার মানবিক সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে শুভসংঘের বিভাগীয় সম্মেলন খাবারের স্বাদে মোগল ঐতিহ্য, সন্ধ্যাজুড়ে সুফি সংগীত কুড়িগ্রামে ভাওয়াইয়া পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের নতুন রূপরেখা সুর ও স্বাদের মেলবন্ধন: ৩০০ ফুটে জমজমাট সুফি মিউজিক্যাল নাইট চড়া সুদের ফাঁদ থেকে মুক্তি: বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় নতুন দিনের স্বপ্ন

তানভীর আলাদিন ও তার প্রিয় উপন্যাস

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
Oplus_131072

‘ব্যতিক্রমী চিন্তা, সাহসী লেখার গাঁথুনি, আমাদের সামাজিক সম্পর্ক ও বিধি নিষেধগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নেয়ার গল্পে এগিয়েছে তানভীর আলাদিনের উপন্যাস হৃদি’ফু। অসম বয়সে ভালোলাগার একটি অবুঝ মোহ সময়ের বিবর্তনে কতোটা তীব্রতা নিয়ে প্রেমের মোহনায় মিশে যেতে পারে, আবার সেই মোহনাকে করোনা ভাইরাসরূপী সুনামী এসে লণ্ডভণ্ড করে যায়।’

তানভীর আলাদিনকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো নিজের লেখা উপন্যাসগুলোর মধ্যে আপনার প্রিয় কোনটি। তার উত্তর ছিলো- হৃদিতা তুই এমন কেন, হৃদিতার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট, মন থেকে দিয়ে যাই শুভকামনা, হৃদি’ফু, মাথিয়ারার মেয়ে, ওসির নাম আলফু মিয়া, এলিয়েন ৬৯,- উপন্যাসসহ বেশ ক’টি কাব্য, অনুকাব্য ও নাট্যগ্রন্থ সবগুলোইতো সন্তানতুল্য প্রিয়, এর মধ্যে ‘হৃদি’ফু উপন্যাসটি নিয়ে আমার পক্ষপাতিত্ব অনেকটাই বেশি। চার বছর আগে ২০২১ সালের বইমেলায় হৃদি’ফু উপন্যাসটি বের করেছিলো সাহিত্যদেশ। প্রায় বছরকাল আগে একদিন প্রকাশক সফিক সাইফুল জানালেন- হৃদি’ফু উপন্যাসটির কোনো কপি এখন আর বিক্রির জন্যে তার স্টকে নেই! তবে তানভীর আলাদিনের ‘মাথিয়ারার মেয়ে’ এবং ‘ওসির নাম আলফু মিয়া’ অন্যান্য উপন্যাসসমূহ পাওয়া যাবে।
আমার (তানভীর আলাদিনের) প্রত্যাশা হয়তো আগামীতে কোনো এক সময় হৃদি’ফু’ উপন্যাসটির পুনঃমুদ্রণ হতেও পারে, যেহেতু এই উপন্যাসটি আমার খুবই প্রিয় গ্রন্থ।
জানি এটি অনেকেরই পছন্দের উপন্যাস- তাই বলে লেখকের নিজের পক্ষপাতিত্ব কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন- কী জানি, হয়তো নিজেকেই খুঁজে পাই এমন গল্পগাঁথা আলো-ছায়ায়।

এই প্রতিবেদকেরও পছন্দের তালিকায়ও এই উপন্যাটি রয়েছে, কারণ- একজন উপন্যাসিক চাইলে কি না করতে পারেন উপন্যাসের অভ্যন্তরে। তার প্রমাণ হৃদি’ফু উপন্যাস ও তানভীর আলাদিন। ঘটনার পর ঘটনা সাজিয়ে ঘটনার মধ্যে অঘটন বাঁধিয়ে; উপন্যাসের চরিত্রের মধ্যে মিলন ও বিচ্ছেদ এনে পাঠক মনে তিনি যে আলোড়ন তুলেছেন তা বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। সামাজিক প্রথার বাইরে গিয়ে ভালোবাসাকে পুঁজি করে এ উপন্যাসের নির্মাণ নিখুঁত, নিপুণ ও নিরন্তর।

প্রদীপ হাসান ও হৃদিতা হাসান, মিলু ও ইলি এ চারটি চরিত্র উপন্যাসের প্রাণকেন্দ্র। প্রদীপ হাসান সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। তার উপন্যাস হৃদি’ফু। কোনো এক কারণে হৃদিতার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় অনেক বছর পূর্বে। কিন্তু তাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা মজুদ ছিল পুরোমাত্রায়। ফলে মিলনের অপেক্ষায় দুজনই ছিল উদগ্রীব।
সবাই জানে হৃদি’ফু প্রদীপ হাসানের উপন্যাসের কাল্পনিক চরিত্র। দুবাই এয়ারপোর্টে পরিচয় হওয়া মিলুও প্রদীপের এই উপন্যাসের চরিত্র হৃদি’ফুর অনুরাগী। উপন্যাসিক তানভীর আলাদিন হঠাৎ প্রদীপ ও মিলুর সামনে হৃদিতা হাসান বা হৃদি’ফু-কে এনে হাজির করেন। যে বিমূর্ত মুখ প্রদীপ ও পাঠক হৃদয় চিত্রিত হচ্ছিল সেই মুখটি তিনি মূর্ত করে দিলেন অবলীলায়। নানা স্মৃতি আর ভুল বোঝাবুঝির জায়গাগুলো পরিষ্কার করে নতুন উদ্যমে নতুন প্রত্যাশায় প্রদীপ ও হৃদিতা মিলন মালা পরে জীবনকে মহিমান্বিত করতে নেমে পড়ে।

মিলু ও ইলি, প্রদীপ ও হৃদিতার জীবনের সঙ্গে একীভূত হয়ে যায়। বড় কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে তারা একত্রে এগিয়ে চলে। যেন মনে হয় নতুন পৃথিবী বিনির্মাণে এ দুটি যুগল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কিন্তু হঠাৎই ছন্দপতন ঘটে মিলুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।
উপন্যাসের চরিত্র, ঘটনা ও এর সত্যতা নিয়ে পাঠক দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলেও কিছু স্থান বা তথ্য খুবই সাম্প্রতিক ও বাস্তব। তেমন একটি বাস্তবতা বনানীর এফ আর টাওয়ার। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অনেক মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ হারায় এই দুর্ঘটনায়। আর এই ঘটনার সঙ্গে যোগ করে দেন মিলুকে। এতে উপন্যাসের আবেদন আরও বেশি হৃদয় বিদারক হয়ে ওঠে।
বেশি বয়সে বাচ্চা নেওয়া, কোভিডের সঙ্গে যুদ্ধ করে হৃদিতার ফিরে আসা অবশেষে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু। হৃদিতার চিঠি অনুযায়ী ইলি ও প্রদীপের নতুন জীবন শুরু করার মধ্য দিয়ে পর্দা টানেন উপন্যাসিক আলাদিন।
উপন্যাসটি পড়তে পড়তে মনে হবে প্রদীপ হাসানই যেন তানভীর আলাদিন। কেননা প্রদীপ হাসানের লেখা নিয়ে যখন একজন পাঠক প্রশ্ন করেন, তাহলে আপনার লেখা পড়ে পাঠক কি শিক্ষা নেবে? উত্তরের প্রদীপ হাসান বললেন, ‘ভাই আমি তো শিক্ষক নই যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেব’।
প্রবীর চক্রবর্তী এঁকেছেন উপন্যাসটির শৈল্পিক প্রচ্ছদ। ব্যতিক্রমী চিন্তা ও সাহসী এ উপন্যাস আমাদের সামাজিক সম্পর্ক ও বিধি নিষেধগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নতুন সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে নেবে এমনটাই বিশ্বাস।

#হাবিবুর রহমান বাবু 

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নিউজ ওয়াচ বিডি
প্রযুক্তি সহায়তায় নিউজ ওয়াচ বিডি