1. admin@newswatchbd.com : admin :
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
এক ছাদের নিচে আরবের স্বাদ: বিয়ন্ড বুফেতে বিশেষ ফুড ফেস্টিভ্যাল পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘নতুন সংঘ’র পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিচিতি সভা নগর উন্নয়নে ডিএনসিসির পাশে থাকার আশ্বাস এবিজির জ্বালানি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে বেসরকারি খাত কতটা কার্যকর ধারাবাহিক নাটক বেগম পাড়া এর শুভ মহরত অনুষ্ঠিত অর্থনীতির চাকা সচল করতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, বাস্তবে কেন ধীরগতি? ওয়ারী থানা ছাত্রদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন মামুন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া মুক্তারের নেতৃত্বে রূপগঞ্জ খেলাঘরে জুলাই হত্যা মামলার আসামিদের নিয়মিত মিটিং  আইসিসিবিতে সেপ্টেম্বর থেকে ‘সুপার সেল কার বাজার’ বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের নতুন উদ্বেগ

খড়মপুরের কল্লা শহীদ: ইতিহাসের সঙ্গে লোকবিশ্বাসের এক মেলবন্ধন

নিউজ ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

-তানভীর আলাদিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের খড়মপুরে তিতাস নদীর তীরঘেঁষে অবস্থিত হযরত শাহ সৈয়দ আহম্মদ গেছুদারাজ (রহ.)-এর দরগাহটি সারা দেশে ‘কল্লা শহীদের মাজার’ নামে পরিচিত।

প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সঙ্গে সিলেট অঞ্চলে আগত ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম ছিলেন। বিভিন্ন বর্ণনায় বলা হয়, তৎকালীন তরফ অঞ্চলে রাজা আচক নারায়ণের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধে তিনি শাহাদতবরণ করেন। তাঁর মস্তক বিচ্ছিন্ন হয়ে তিতাস নদীর স্রোতে ভেসে খড়মপুরে এসে পৌঁছায়—এমনটাই স্থানীয় লোকবিশ্বাস। কথিত আছে, খড়মপুরের জেলে চৈতন দাস ও তাঁর সঙ্গীরা তিতাসে মাছ ধরার সময় জালে সেই খণ্ডিত মস্তকটি পান। এরপর অলৌকিকভাবে মস্তকটি কথা বলেছে এবং তার নির্দেশে জেলেরা ইসলাম গ্রহণ করে মস্তকটি ইসলামী রীতিতে দাফন করেন—এই কাহিনিই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে কল্লা শহীদের মাজারের আধ্যাত্মিক কিংবদন্তি হয়ে আছে।

তবে এই অলৌকিক ঘটনাগুলোর পক্ষে নির্ভরযোগ্য সমসাময়িক ঐতিহাসিক দলিল নেই; তাই এগুলোকে ইতিহাসের নিশ্চিত তথ্যের বদলে স্থানীয় লোককথা হিসেবেই দেখা সংগত।

খড়মপুরের এই দরগাহকে ঘিরে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক ওরস।

২০২৬ সালে সাত দিনব্যাপী ওরস আজ ১০ আগস্ট সোমবার থেকে শুরু হয়ে সপ্তাহজুড়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্ত-আশেকানদের সমাগম ঘটে।

খড়মপুরে যাতায়াতও বেশ সহজ। ঢাকা থেকে ট্রেনে সরাসরি আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে এসে সেখান থেকে অটো, সিএনজি বা স্থানীয় যানবাহনে খড়মপুর মাজারে যাওয়া যায়। বাসে এলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর নেমে সিএনজি/অটোরিকশায় সরাসরি খড়মপুরে যাওয়া যায়। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, ওরসের সময় তিতাস নদীপথেও অনেক ভক্ত খড়মপুরে আসেন।

তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি—মাজারে যাওয়ার সময় রেললাইন বা রেলসেতু দিয়ে হেঁটে পার হওয়া একেবারেই নিরাপদ নয়। ২০২৩ সালের ওরস চলাকালে রেলসেতু পার হতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কা ও নদীতে পড়ে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।

ইতিহাস, কিংবদন্তি আর মানুষের ধর্মীয় আবেগ—এই তিনের সম্মিলনেই খড়মপুরের কল্লা শহীদ আজ শুধু একটি মাজার নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লোকঐতিহ্যেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দলিল যেখানে থেমে যায়, সেখানে লোকস্মৃতি গল্প বলে; আর সেই গল্পের মধ্যেই শত শত বছর ধরে বেঁচে থাকে মানুষের বিশ্বাস।

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৩ নিউজ ওয়াচ বিডি
প্রযুক্তি সহায়তায় নিউজ ওয়াচ বিডি