
জয়া আহসান আর চূর্ণী গাঙ্গুলির আধেক চেহারা নিয়ে বানানো “অর্ধাঙ্গিনী” ছবির পোস্টারটি আমাকে খুব টেনেছিল। তকে তকে ছিলাম কবে দেখতে পারবো “অর্ধাঙ্গিনী”! তারপর একদিন এলো সেই বহু আকাঙ্ক্ষিত ক্ষণ। সুদূর আমেরিকার প্রবাস জীবনে আমার কেবল অপারেটরদের কল্যাণে “অর্ধাঙ্গিনী” দেখার সৌভাগ্য হলো। ছবিটির গল্পের বুনন চমৎকার। তবে গল্প খুব সাধারণ। কিন্তু অভিনয়শিল্পীদের অসাধারণ পারফরম্যান্স, নিখুঁত ডায়লগ আর পরিমিত রসায়ন মিলে “অর্ধাঙ্গিনী” দারুনভাবে হৃদয় ছুঁয়ে গেছে আমার। স্ক্রিনপ্লে তথা ছবিটির চিত্রনাট্য ছিল অতুলনীয়। ছবিটি নিয়ে এই রিভিউটি লিখেছেন আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিক মিলি সুলতানা।
ছবিতে কৌশিক সেনের জীবনে চূর্ণী গাঙ্গুলি প্রাক্তন আর জয়া আহসান হলেন বর্তমান স্ত্রী। ঘটনার মারপ্যাঁচে শপিং সেন্টারে গিয়ে চূর্ণী’র নজরে পড়ে যায় তার প্রাক্তন স্বামী কৌশিক। কিন্তু সেটাও স্বাভাবিকভাবে নয়। প্রাক্তন অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানে তিনি আবিস্কার করেন প্রাক্তনের জীবনে আরেক নারী জয়া আহসানকে। একটা সাদামাটা কাহিনীর বিন্যাস কীভাবে এমন ক্লাসিক হয়, সেটা অবাক হয়ে দেখেছি। স্বামীকে বাঁচানোর জন্য জয়া আহসান চূর্ণী গাঙ্গুলির শরণাপন্ন হন। চূর্ণী তার ক্লাসিক অভিনয় দিয়ে দর্শকদেরকে টেনে নিয়েছেন তার দিকে। আমি শুধু মন্ত্রমুগ্ধের মত তার অভিনয় দেখে গেছি। আর জয়া আহসানও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমানতালে চমৎকার অভিনয় করেছেন।
জয়া আর চূর্ণী – দু’জনে প্রতিটা শটে তাদের এক্সপ্রেশন দিয়ে দৃশ্যগুলো ভীষণ নিখুঁত করে ফুটিয়েছেন তারা। প্রতিটা চরিত্রকে নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বর্তমান সময়ের ভাঙাগড়া, অহরহ ডিভোর্স, তিক্ততা, হাত ছাড়া ধরার মধ্যে একটা সুন্দর পরিপাটি গল্প উপহার দিয়েছেন গুণী নির্মাতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। এই দুই নারীচরিত্রের অসহয়তা, পরস্পরের প্রতি সাহায্যের হাত, আত্মসম্মান বোধ বা কখনও প্রতিহিংসার যে চিত্র পরিচালক এঁকেছেন, তা ছবির অন্যতম আকর্ষণ। বনিবনা না হওয়ায় কৌশিকের সঙ্গে চূর্ণী’র দীর্ঘ ১৭ বছরের বিবাহিত জীবনে বিচ্ছেদ ঘটে।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বহু বছর ধরে কৌশিকের থেকে পাওয়া অনেক অপমান সহ্য করেছেন তিনি। কৌশিকের পরিবারও মেতে নিতে পারেনি চূর্ণী’র সংসার ছেড়ে চলে যাওয়াটা। বিচ্ছেদের পর কৌশিক এবং তার জীবনের নতুন ইনিংস বেশ ভালোই চলছিল। অপরদিকে বিচ্ছেদের তিন বছর পর কৌশিকের জীবনে আসেন জয়া। বাড়ি ছেড়ে বেড়িয়ে এসে জয়াকে বিয়ে করে তারও দিন ভালোই কাটছিল। কিন্তু হঠাৎ সব কিছু এলোমেলো করে দেয় কৌশিকের আকস্মিক অসুস্থতা।
অর্ধাঙ্গিনী ছবিতে একটি জটিল সমীকরণকে একেবারে সহজবোধ্য করে দর্শকদের সামনে হাজির করেছেন পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলী। মানুষের জীবনের কঠিন, অন্ধকার দিকগুলো নিয়ে কাজ করে কৌশিক আগেও নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। এবারও তার অন্যথা হয়নি। দর্শকদের তিনি বসিয়ে দিয়েছেন বিচারকের আসনে। যেখান থেকে ওঠে আসার উপায় নেই। চূর্ণী’র অভিনয় এবং কিছু কিছু ডায়লগে কখনও কখনও চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠেছে। দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান একের পর এক দুর্দান্ত ছবি উপহার দিচ্ছেন। অর্ধাঙ্গিনী’র পর জয়া’র “ভুতপরী”র ট্রেলার দেখে আমি অভিভূত। ভীষণ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি “ভূতপরী” এবং “পেয়ারার সুবাস” এর জন্য।