
আজ ১৯ নভেম্বর। আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস-২০২৩। এবছর দিবসটির থিম হল ‘ জিরো মেল সুইসাইড ‘, যা পুরুষ ও ছেলেদেরকে মানসিক স্বাস্থ্য পরিচালনা করতে সাহায্য করার গুরুত্ব তুলে ধরে।
এক একজন সৎ, পরিশ্রমী, মার্জিত স্বভাবের পুরুষই সত্যিকারের রোলমডেল। তারা আত্মহত্যার কথা ভাবতেই পারে না। নিজেকে শেষ করে দেয়ার কথা ভাবতে পারে শুধুমাত্র কাপুরুষেরাই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ৪৫ বছরের কম বয়সী পুরুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এটি ঘটছে। পরিসংখ্যান বলছে, পুরুষের তুলনায় নারীরা বিষণ্নতায় বেশি ভোগেন। কিন্তু, পুরুষের আত্মহত্যার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই পুরুষের মাঝে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে ও মানসিক সুস্থতার জন্য পুরুষ দিবস উদযাপন গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো দিবসটির এবারের থিম হল ‘ জিরো মেল সুইসাইড ‘।
বিশ্ব পুরুষ দিবস ১৯৯৯ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জিরোম টিলাকসিংয়ের উদ্যোগে এ দিবস পালন শুরু হয়।
গত শতকের ষাটের দশকেই পুরুষ দিবস পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি নিবন্ধে বলা হয়, ২৩ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস হিসেবে পালন করতে আগ্রহী অনেকেই। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো একই ধরনের একটি দিবস উদযাপন করতে চাচ্ছিলেন তারা। এর পরের দশক থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলাদাভাবে পুরুষ দিবস পালন শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, কলম্বিয়া, রাশিয়া ও চীনে উদ্যাপন করা হতো দিবসটি। তবে ভিন্ন ভিন্ন এ উদ্যোগ তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। একসময় বন্ধও হয়ে যায়।
শেষমেশ ১৯৯৯ সালে জিরোম টিলাকসিংয়ের নির্ধারিত দিনটিই বিশ্ব পুরুষ দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়। সে সময় ক্যারিবীয় অঞ্চলে দিবসটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।
এ দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবার, সমাজ, স্ত্রী ও সন্তানের প্রতি পুরুষের অবদানকে মূল্যায়ন করা। পুরুষের স্বাস্থ্য ও মানসিক উন্নয়ন সাধন। সামাজিক আচরণ, প্রত্যাশা ও আইনগত বিষয়ে পুরুষের প্রতি বৈষম্যগুলো তুলে ধরা। নারী-পুরুষের লিঙ্গসমতার বিষয়টি জোরদার করা। একটি নিরাপদ ও উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলা।
বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশ আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস উদযাপন হয়। পুরুষ দিবস যেসব দেশে ঘটা করে উদযাপন করা হয়, তার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, হাইতি, জ্যামাইকা, হাঙ্গেরি, মাল্টা ও ঘানা।
তবে আজ যাদের জন্মদিন তারা যদি ভেবেই বসেন তারা পুরুষ হিসেবে জন্ম নিয়েছেন। তাহলে আজকের দিনে জন্ম নেয়া নারীরা কী ভাববেন। আপনি ভুলেও ভাববেন না, নারী দিবসকে টেক্কা দিতে এসেছে বিশ্ব পুরুষ দিবস। পুরুষের মূল্যায়ন তুলে ধরতেই উদযাপন করা হয় বিশ্ব পুরুষ দিবস। পরিবার, সমাজ ও দেশে পুরুষের অবদান ইতিবাচকভাবে তুলে ধরাই এ দিবসের লক্ষ্য।