
গত ২৮ অক্টোবর থেকে নির্বাচন বানচল করার উদ্দেশ্যে বিএনপি এর নেতাকর্মীরা অবরোধের নামে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাস, ট্রাক, সিএনজি, লেগুনা, এ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন পরিবহন ভাংচুর ও ককটেল নিক্ষেপ/দাহ্য পদার্থ দ্বারা বাসে অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এমনকি গত ২৮ তারিখে তাদের নারকীয় তান্ডবে একজন পুলিশ কনস্টেবলকে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যাসহ সারা দেশে ব্যাপক নাশকতা শুরু করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান র্যাব-১০ এর অধিনায়ক।
সেই থেকে সারাদেশে চলমান বাস, ট্রাক, সিএনজি, লেগুনা, এ্যাম্বুলেন্স, ট্রেইনসহ বিভিন্ন পরিবহন ভাংচুর/অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার পরিকল্পনাকারীসহ জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ২৬ ডিসেম্বর আনুমানিক রাতে র্যাব-১০ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার কদমতলী থানাধীন শ্যামপুর পালপাড়া মন্দির রোড এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে ককটেল, পেট্রোল বোমা ও ককটেল তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ০২ জন নাশকতাকারীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নাম ১, মোঃ নয়ন (২২), পিতা-মোঃ সিরাজ, সাং-শ্যামপুর পালপাড়া, থানা-কদমতলী, ঢাকা ও ২, আলামিন (২৩), পিতা-মোঃ মোক্তার হোসেন, সাং-শ্যামপুর পালপাড়া, থানা-কদমতলী, ঢাকা বলে জানা যায়। এ সময় তাদের নিকট থেকে ১৩টি ককটেল, ১৫টি পেট্রোল বোমা, গান পাউডার, কাচের গুরা, ০২টি কেচি ও ০৭টি স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত নয়ন ও আলামিন উভয়ই ছাত্রদলের কর্মী। তারা স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতৃবৃন্দের নির্দেশে নাশকতার উদ্দেশ্যে পেট্রোল বোমা ও ককটেল তৈরি করে তাদের চাহিদামত বিভিন্ন সময়ে সরবরাহ করে আসছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, ইতোপূর্বে তারা সেলিম রেজা ও আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়দাবাদ, ধোলাইপাড়, গোলাপবাদ, ডেমরা, দনিয়া ও কদমতলীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নাশকতা করে আসছিল। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত নয়নের বিরুদ্ধে রাজধানীর কদমতলী থানায় নাশকতা, চুরি ও মারামারির একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।