
ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের সহায়তায় চট্রগ্রামস্থ মের্সাস নবাব এন্ড কোম্পানীর প্রায় ৭ শত কোটি টাকা মুল্যের জমি ও শিল্প স্থাপনা দখল করেছে ইউনাইটেড গ্রুপ। আওয়ামী সরকার আমলে এই জমি ও স্থাপনা উদ্ধারের শত প্রকার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি মের্সাস নবাব এন্ড কোম্পানী। বরং প্রায় একডজন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হয়েছে মের্সাস নবাব এন্ড কোম্পানীর সত্বাধিকারী মোহাম্মদ নবাব খানকে। একটি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীর শিল্পস্থাপনা দখল করে সেখানে দখলদার ইউনাইটেড গ্রুপের শিল্প সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। শেখ হাসিনার পতনের পরেও সেটি উদ্ধার করতে পারেননি মের্সাস নবাব এন্ড কোম্পানীর সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ নবাব খান। ইউনাইটেড গ্রুপ দখল করা সম্পত্তিতে অবকাঠামো নির্মাণ করে সার্বক্ষণিক সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করেছেন।
এ ছাড়া অর্থের বিনিময়ে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ভাড়া করে তাদেরকে পাহারায় রাখা হয়েছে। প্রায় ৭ শত কোটি টাকা মুল্যের এই সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য মের্সাস নবাব এন্ড কোম্পানীর সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ নবাব খান প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, মের্সাস নবাব এন্ড কোম্পানী, চট্টগ্রাম, রেজিষ্টাড অফিস-১৫১/৩১৮ শেখ মুজিব রোড, আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, চট্টগ্রাম। বাৎসরিক মিলিয়িন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আনয়নে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। বাৎসরিক ১০ কোটি টাকারও অধিক ট্যাক্স এবং ভ্যাট প্রদান করে থাকে এই কোম্পানীটি। স্বৈরাচারী সরকারের সাবেক ভূমি মন্ত্রীর পিতা জীবিত থাকা অবস্থায়, তার ভূমিদস্যু এবং আপন ভাই রনি জামান চৌধুরীর অত্যাচারে অত্র এলাকায় ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য করে মেসার্স নবাব এন্ড কোম্পানী।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে জমাকৃত আবেদনে মের্সাস নবাব এন্ড কোম্পানীর সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ নবাব খান জানান, ২০০৯ সালে প্রথমবার আখতারুজ্জামান চৌধুরী সংসদ সদস্য হওয়ার পর কোটি কোটি টাকার চাঁদা দিয়েও খুশি রাখতে না পারায়, সর্বশেষ গত ২৮/০৩/২০০৯ ইং সকাল সাড়ে ১০ টার সময় পরিকল্পিতভাবে আমার নিজস্ব জায়গায় পিলার দেওয়ার চেস্টা চালায়। আমার লোকজন বাধা প্রদান করিলে, আক্তারুজামান বাবুর নির্দেশে কাজী মোজাম্মেল, লিয়াকত আলী, রনি চৌধুরী ও মুরাদ সহ অন্যান্য ভূমি দস্যুসহ পরিকল্পিতভাবে মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হাইকোর্টে জিআই স্ট্যে রুল জারি থাকা অবস্থায়, ২৭-৩০ বছর বয়সী প্রায় ৩০০ জন যুবক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে মাথায় লাল কাপড় বেঁধে আমাদের লোকজনকে মারধর করে। এরপর, আমার বন্দর মৌজার মার্কেটে গণলুটপাট চালায়। প্রায় ৫৬ লক্ষ টাকার মালামাল ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং ডেইরি ফার্ম লুটপাট করে প্রায় ৫২টি গরু লুট করে নিয়ে যায়।
অতঃপর ক্ষমতার জোরে আমার পুরো পরিবার সহ আমাদের গ্রামের প্রায় ৪ শতাধিক লোকের বিরুদ্ধে ৩টি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। সেগুলো হলো: কর্ণফুলী থানার মামলা নং:-১৩,১৪,১৫, তারিখ:- ২৮/০৩/২০০৯ ইং । উক্ত ৩টি মিথ্যা মামলার দরুণ আমার গ্রামের সকল মানুষ বিশেষ করে পুরুষরা গ্রামে বসবাস করতে পারছিলাম না। অতঃপর হাইকোর্ট থেকে আমি নিজে সকলের জামিনের ব্যবস্থা করি। উক্ত ৩টি মিথ্যা মামলায় আমি নিম্ন আদালতে সারেন্ডার করে জামিন চাইতে গেলে চাঁদাবাজ মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরীর তৎসময়ের বিচার প্রশাসনে প্রভাব খাটিয়ে আমাদের পরিবারের ৭ জনের জামিন না মঞ্জুর করান। এমতাবস্থায়, উক্ত সময়ে আমার জায়গায় দখল করে নিয়ে বাউন্ডারি ওয়ালের কার্যক্রম শুরু করেন। সেই সাথে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের নাম ব্যবহার করে কার্ড ছাপিয়ে চট্টগ্রামের ছোট বড় প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠান হতে কুখ্যাত আখতারুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে ভূমি দস্যু লিয়াকত, মোজাম্মেল, জসীম, নসু ও আরো অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের নামে, প্রায় ২৫কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেন। অন্যদিকে, আমি যাতে জামিনে বাইরে আসতে না পারি সেই উদ্দেশ্যে একাধিক গায়েবি মামলা: (১) থানা: ডাবলমুরিং, মামলা নং: ১৪ (০৪) ০০৯, জিআর নং: ৩২৪/০৯। (২) থানা: কর্ণফুলী, মামলা নংঃ ৭(৫)০০৯, জিআর নং: ১৮৯। (৩) থানা: পতেঙ্গা, মামলা নং: ০৫ (০৬) ০৯, জিআরও নং: ১৮৪/০৯ দায়ের করেন। ধারাবাহিক ভাবে উক্ত মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে নেন। পরবর্তীতে, দীর্ঘ শুনানীর পরে উল্লেখিত মিথ্যা মামলা থেকে আমার পরিবার সহ গ্রামের সকলেই অব্যাহতি পাই। নিম্ন তফশিলোক্ত জায়গা মৌজা- রাঙাদিয়া, থানা-আনোয়ারা, জেলাঃ চট্টগ্রাম। বিএস দাগ নং- ৯,১২,১৮,১৯, ২০,২১,২৪,১০৪,১০৫,৪০৩,৪০৪,৪০৫ ও ৪০৬। চৌহদ্দি: উত্তরে পশ্চিমে কোনাকোণি সিইউএফএল আনসার ব্যারাক ডিএপিএফসিএল এ সীমানা, দক্ষিণে কোনাকোণি কাফকো সীমানা, পূর্বে উত্তরে- কোনাক্যোণি সি ইউএফএল এর কনহেয়ার সীমানা,পশ্চিমে-দক্ষিণে কর্ণফুলী নদী ও তৎসংলগ্ন কাফকো।
তিনি আরো জানান, আমাদের পূর্বপুরুষদের মোঘল আমল হতে নিজস্ব জায়গা ছিল। ১৯২৮-২৯ ইং তে নদী ভাঙনে সমস্ত জায়গা বিলীন হয়ে যায়। এককালে উক্ত নদী পথে যাতায়তের লঞ্চ/নোট, মালামাল বোঝাই বোট, ইত্যাদি চলাচল করতো। সেই সময় থেকে উক্ত জায়গার নাম হয় জেলে ঘাটা। পরবর্তীতে ১৯৬০ সনের ভয়াবহ সাইক্লোনের পরে আবার চর জাগলে উক্ত জায়গা অত্র এলাকার এবং আমাদের পূর্বপুরুষের নামে পিএস,বিএস জরীপ হয়। পুনরায় আমাদের পূর্বপুরুষরা নদীভাঙন থেকে জমিগুলো রক্ষা করে চাষাবাদের উপযোগী করে। পরবর্তীতে, আমার পূর্বপুরুষের নামে ইঝ চুড়ান্ত প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায় বন্দোবস্তী মামলা নং: ১৪৮ (ক) ১৯৭৪-৭৫ মূলে বন্দোবস্তী নেয়। তৎমতে দখল থাকাবস্থায় উন্নতি করা ও বহুমুখী প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে আবার চাষাবাদের উপযোগী করে।
পরবর্তীতে, ১৯৭৮-৮৯ সালে সিইউএডএল এবং ১৯৯১ সালে কাফকো প্রতিষ্ঠা কালে, জায়গা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হলে, আমাদের তুমুল আপত্তির মুখে আমাদের উক্ত জায়গা অধিগ্রহণ থেকে সরকার বিরত থাকে। অতঃপর এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালের বাণিজ্যিক বন্দোবস্তি মূলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিস, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নিয়ে উক্ত অফিসের মাধ্যমে আমি স্কিল এন্ড আনস্কিল ম্যানপাওয়ার সাপ্লায়,ফার্টিলাইজার ওয়ার হাউস ডিলার, এবং কাফকো এবং তৎসময়ের জাপানী প্রতিষ্ঠান সমূহের লোকাল এজেন্ট হিসেবে সম্পূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাই। পরবর্তীতে, তফশিলোক্ত জায়গায় বিগত ০৮/০৩/২০১৩ ইং তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারী এলপিজি প্ল্যান্ট বিধি মালা ২০০৪ মোতাবেক লাইসেন্স প্রাপ্ত হই। যার নং-২০১৭০৩৮.০১.০৬.০৪৫.২০১২-২৩৫ তাং: ০৮/০৫/২০১৩ তারিখে স্থায়ীভাবে প্রাপ্ত হই। এলপিজি পলির উদ্দেশ্যে আমার ৫০ বছরের বিএস দখলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২৬ একর অকৃষি জায়গার চলমান কমার্শিয়াল লীজের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করি। স্থানীয় ভূমি/ এসি ল্যান্ড অফিস সরেজমিনে যাচাই-সার্ভে করে উক্ত মৌজায় আমার ক্রয়কৃত খতিয়ানভুক্ত আরো জায়গা থাকায়, কো-শেয়ার হিসেবে এলপিজি বোতলিং এবং ফিলিং ইন্ডাষ্ট্রি নির্মাণের জন্য শিল্পায়নের উদ্দেশ্যে ২৬ একর জায়গা থেকে ১০ একর ৫০ শতক জায়গা আমাকে বন্দোবস্তী দেয়। বাকি ১৫ একরের জন্য বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আপিল করি।
ইতিমধ্যে সয়া প্রডাক্ট নামক একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান (কখন এবং কে বা কারা, কোন কালে) প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম নামে গোপনে অস্তিত্ববিহীন বিচ্ছিন্ন দাগে যেমন: মেরিণ একাডেমি থেকে সাম্পান ঘাট, দক্ষিণে সিইউএঢএল প্রজেক্ট গোবাদিয়া এবং কাফকো প্রজেক্ট এর বিভিন্ন শতাধিক দাগ উল্লেখ করে একটি ভুয়া এবং অস্তিত্ববিহীন কোম্পানী সয়া প্রডাক্ট এর নামে একটি জাল বন্দোবস্তী দলিল সৃজন করে। উক্ত ভুয়া কোম্পানীর নামে জাল বন্দোবস্তী দলিল বাতিলের জন্য মামলা নং ঃ- ২৯/২০০৬; ১৮৫/২০১৫ দায়ের করি। যথা নিয়মে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকে। উক্ত বন্দোবস্তী বাতিলের জন্য সয়া প্রডাক্টের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় কমিশনারের আদালতে মামলা নং- ১০৩/০৬ দায়ের করি। মাননীয় আদালত উক্ত বন্দোবস্তী রত-রহিত করেন। সেই সাথে ৫০ বছরের বিএস দখলের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাননীয় আদালত আমার ১০ একর ৫০ শতক জায়গা এলপিজি বোতলিং এন্ড ফিলিং প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য দেওয়া বাণিজ্যিক বন্দোবস্তী বহাল রাখেন। রদ-রহিতের বিরুদ্ধে সয়া প্রডাক্ট ২য় আপিল করিলে তা আপিল বিভাগ খারিজ করে দেয়। এরপরে থেকে সয়া প্রডাক্ট নামক প্রতিষ্ঠানটি এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের ৩ জন’ মালিক অস্তিত্ববিলীন থাকে।
এই অস্তিত্ববিলীন প্রতিষ্ঠানের মালিক হলেন: (১) শরীফুল ইসলাম। (২) ফাহমিদা ইসলাম। (৩) যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি, আজিজ মার্কেট, শাহবাগ ঢাকা-১০০০। যা সন্দেহাতীত ভাবে ডিসি অফিসের যে কোন জুনিয়র কর্মচারী হতে পারে। আর্টিক্যাল অব মেমোরেন্ডাম (আইজিএম) এ উল্লেখিত উক্ত ৩ জন ব্যক্তি মাত্র ৫০০,০০০ টাকা মূলধন দ্বারা সয়া প্রডাক্ট গঠিত হয়। ২য় দফায় আখতারুজ্জামান মৃত্যুর পরে তার ছেলে পুনরায় এমপি নিয়োজিত হয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যায়। কিন্তু তথাকথিত ভুয়া প্রতিষ্ঠান সয়া প্রডাক্ট কোম্পানী মাত্র ৫০০,০০০ টাকা মূলধন দেখিয়ে জেলা প্রশাসকের বরাবর ৪ কোটি ৭১ লক্ষ ২৫ হাজার ১৫ টাকা সালামী পরিশোধ করে, এই মর্মে কিভাবে জাল বন্দোবস্তী সৃজন করিতে পারে? ভূমি মন্ত্রীর সহায়তায় তার ভাই উক্ত মানি লন্ডারিং অর্থ হতে উক্ত সালামী অর্থ পরিশোধ করেন।
কোস্পানী গঠিত হওয়ার পর থেকেই উক্ত অস্তিত্ববিলীন সয়া প্রডাক্ট ধারাবাহিক ভাবে তৎসময়ে মানিলন্ডারিং ও দুদকের তদন্তাধিন থাকা অবস্থায় ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সমুদয় মালিক কাগজে কলমে পরিবর্তন হয়। ভূমি প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপে কয়েক বছরের ব্যবধানে ইউনাইটেড গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরকে যুক্ত করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে ২০১৩ সালে ৫০০,০০০ টাকা মূলধন থেকে কোটি ৬০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় দাঁড়ায়।
তখাদির প্রতিমন্ত্রী ৩০% অলিখিত শেয়ার নিয়ে ইউনাইটেড গ্রুপ এর মালিকগণ যথাঃ (১) আহমেদ ইসমাঈল হাসিনা (২) ইমালেক তালহা ইসমাঈল বারী। (৩) ফরিদুর রহমান খান। (৪) আবুল কালাম আজাদ। (৫) হাসান মাহমুদ রাজা। ৬) মিঃ মঈনুদ্দীন হাসান রশিদ। (৭) খন্দকার মঈনুল আহসান শামীম এবং (৮) আখতার মাহমুদ রানা। এরা সকলেই একই পরিবার ভুক্ত।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ৩০% শেয়ার এবং উপরে বর্ণিত ইউনাইটেড গ্রুপ এর পরিচালকদের সাথে যোগসূত্রে ২০ কোটি টাকা গ্রহণ করে উক্ত জায়গা এবং কাফকো সিইউএফএল এবং চিটাগং পোর্ট এর সকল খাস জমি দখল করে দেওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ হয়।
বারবার জায়গা দখল করার জন্য জাতীয় কুখ্যাত মানি লন্ডারিং ভূমি মন্ত্রীর লোকজন জায়গা দখল করতে আসলে আমার হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং:-৭২৭১/২০১৪ মূলে সয়া প্রডাক্ট তথাকথিত গঠিত ইউনাইটেড গ্রুপ এর বিরুদ্ধে স্ট্যে অর্ডার জারি হয়। পরর্বতীতে সুপ্রিম কোর্ট সয়া প্রডাক্ট তথাকথিত গঠিত ইউনাইটেড গ্রুপ আপিল করিলে উক্ত স্ট্যে অর্ডার বহাল রাখে। ভূমি আপিল বোর্ড ফুল বোর্ডের কাছে দ্রত নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করে। উক্ত স্ট্যে অর্ডার চলমান থাকা অবস্থায় কুখ্যাত ভূমি দস্যু মানিলন্ডারিং ভূমি মন্ত্রী তার ভূমিদস্যু আপন ভাই রনি এবং এলাকার (২০১৪-১৫ সনের) তৎসময় কালের সকল চেয়ারম্যান এবং স্বৈরাচারী সকল নেতা কর্মীকে নির্দেশ প্রদান করেন যে, উক্ত জায়গা যে কোন প্রকারে ইউনাইটেড গ্রুপকে দখল করিয়ে দিতে হবে।
এমতাবস্থায়, কুখ্যাত মন্ত্রীর নির্দেশে নারী নির্যাতন মামলা নং: ১৩ (৪৩); ২৩ (৯) ১৪ নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল হইতে মিথ্যা মামলা গ্রেফতার করে আমাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এরপর লাগাতার আমাদের লোকজনকে আরো অনেক মামলা দিয়ে কাফকো সিইউএফএল এবং চিটাগং পোর্ট সাইড, এবং আমার জায়গা সহ চারিদিকে বাউন্ডারি প্রদান করে। সেই সাথে বিসিআইসির তৎকালীন চেয়ারম্যানকে ভূমি মন্ত্রী ম্যানেজ করেন। তাদের জায়গা দখলসহ, তাদের জায়গার উপরে উত্তর পাশে ছিল হ্যালিপ্যাড, যাহা হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সিইউএফএল উদ্ভোধন করার সময় অবতরণ করেন। দক্ষিণে পাশে কাফকো হ্যালিপ্যাড যাতে কাফকো উদ্ভোধন করার জন্য বেগম খালেদা জিয়া অবতরণ করেছিলেন উক্ত জায়গা সমূহ দখল করা শুরু করেন।
পরবর্তীতে উক্ত নারী শিশু মামলা, নারী-শিশু ট্রাইবুনাল বাদিনীকে হাজির করে। বাদিনী, আনসার-ভিডিপির বাঁশখালী থানার কাজের বুয়াকে জিজ্ঞাসা করিলে, তিনি কিছু জানেন না এবং জানান” আমাকে কিছু লোক (মুরাদ, নসু এবং রনি) টাকা দিয়ে উক্ত মামলা করতে পরামর্শ দেয়।” মাননীয় কেটি সাথে সাথে আমাকে অব্যাহতি দেয় এবং বাদিনীকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এর ধারাবাহিকতায়, উক্ত ভূমিদস্যুর ভাই দ্বিতীয় মানি লন্ডারার, ভূমিদস্যু ও গোল্ড ব্যবসায়ী রনি প্রজেক্ট কনস্ট্রাকশন এর শত কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট নিয়ে আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা- (১) কতোয়ালী থানা, মামলা নংঃ- ১০ (০১) ২০১৫; (২) চন্দনাইশ থানা, মামলা নং:-১৩ (০১)১৫; (৩) পাঁচলাইশ থানা, মামলা নং:- ১৫(০২)১৫; (৪) কর্ণফুলী থানা, মামলা নংঃ-১৬(১২) ২০১৮; তারিখ-১০/১২০২০১৮; (৫) সাতকানিয়া থানা, মামলা নং:- ২১/১৫, তাং: ০৪/০১/২০১৪; ২১,১৮৭,১৮৮; (৬) লোহাগড়া রানা, মামলা নং:- ০১ (০২)২০১৪; ১৭০,১৭১ (৭) আনোয়ারা থানা, মামলা নং: ০৩/৫৫; তারিখ: ০৪/০৫/২০১৪; ধারাই মামলা নং: সি আর-১৭৬; (৯) বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। ধারাবাহিক ভাবে বিভিন্ন (শোন এ্যারেষ্ট) দেখিয়ে দীর্ঘ ৫ মাস জেল হাজতে আটকে রাখেন।
পাবনা সহ অন্যান্য জেলায় এরূপ একাধিক মামলা দিয়ে উক্ত ভূমি দস্যুরা জায়গা দখল করার নিমিত্তে ক্ষমতার জোর খাটায়। তারা ক্ষমতার জোরে বিসিআইসি’র চেয়ারম্যানকে রাজি করায় এবং আমার জায়গা মাঝখানে রেখে চারিদিকে বাউন্ডারি দিয়ে কার্যক্রম/ জায়গা ডেভেলপমেন্টের কাজ শুরু করে। আমার কোর্টের আদেশ প্রাপ্ত ১০ একর ৫০ শতক এবং কেনা ১৫ একর মোট ২৫ একর জায়গার উপরে স্থাপিত উক্ত অফিস সহ বর্তমানে দখল করে আছে।
কাফকো প্রতিষ্ঠাকাল হতে (১৯৮৮-২০০০), দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ জেনারেল কনস্ট্রাকশন,সয়াড্ করপোরেশন,জাপান কাফকো এর লোকাল এজেন্ট থাকায় এবং তাদের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় থাকার কারণে, তৎসময়ে আমি তাদের কাছ থেকে ১৭ কোটি টাকার মালামাল কিনি, যা উক্ত জায়গায় আমার অফিসের ঝঃড়ৎব স্টোর এ মজুদ ছিল। আমি হাজতে থাকা অবস্থায়, উক্ত মালামাল অফিস স্টোর থেকে তথাকথিত ইউনাইটেড গ্রুপ এর রাজার সহযোগীতায় লুটপাট করে নিয়ে যায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে, আমার প্রতিনিধিগণ থানায় কেটি জিডি: বিশেষ ডায়েরী ১০৩৬/২০১৫ দায়ের করেন। বর্তমানে কাফকো সিইউএফএল এবং সরকারী খাস জমি দখল করার পর আমার ১০ একর ৫০ শতক ও ১৫ একর জায়গার উপরে পাইলিং কার্যক্রম চলতেছে যা বন্ধ করা একান্ত প্রয়োজন। ১১ বছর পূবে এলপিজি প্ল্যান্ট লাইসেন্স পাওয়া প্রজেক্ট করতে না পারায়, আমি শত শত কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। আমার উপর এই অত্যাচার, হয়রানি, জেল, জুলুম এর বিচার আবেদন করছি। সেই সাথে আমার জায়গা জোর পূর্বক দখলের ধারাবাহিকতা বন্ধ করার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। যাতে করে আমি আমার প্রস্তাবিত এলপিজি প্ল্যান্ট পুনরায় স্থাপন করতে পারি।
আমার ও আমার লোকজনের নামে বিগত ১৫ বছরের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য গায়েবী মামলার তালিকা: চট্টগ্রাম জেলা: কর্ণফুলী থানা, মামলা নং- ১৩,১৪,১৫ তারিখ-২৮/০৩/২০০৯ ঘটনা-সকাল ৯.৩০ মিনিট,হাইকোর্ট বেঞ্চ অবসর থাকায় ০৬/০৪/২০০৯ তারিখে কন্ডীশনাল বেইল পাই। খালাস। ডবলমুরিং থানা, মামলা নং-১৪ (০৪)০০৯,জিআর নং-৩২৪/০৯, কর্ণফুলী থানা, মামলা নং-৭(৫)০০৯,জিআর নং-১৮৯,(মিথ্যা মামলা প্রমান হওয়ায় হওয়ায় খালাস), সোন এরেস্ট মামলা হতে অব্যহতি পাই। খালাস। পতেঙ্গা থানা, মামলা নং-০৫ (০৬) ০৯,জিআরও নং-১৮৪/০৯,খালাস। সাতকানিয়া থানা, মামলা নং-২১/২১ তারিখ-০৪/০১/২০১৪, ঘটনার সময়ঃ রাত ১০.৩০ মিনিট, বিশেষ ট্রাইবুনাল মামলা নং-১৮৭/১৬, ১৮৮/১৬, মূল মামলা সোন এরেস্ট। লোহাগাড়া থানা, মামলা নং ১(২)২০১৪ ঘটনার তারিখঃ ৩১.০১.২০২৪, রাত ১১.৪৫ মিনিট,জিআর নং-২১/১৫, সাতকানিয়া থানার মামলায় ২১/০১/২০১৫ (সোন এরেস্ট)। যা ০৮/০৮/২০১৮ সালে মূল (সোন এরেস্ট) মামলা হতে অব্যহতি পাই। উক্ত মামলাতে জন্ম বিশেষ ট্রাইবুনাল মামলা নং-১৭০,১৭১ মোট আসামী-২৪০ জন।
আনোয়ারা থানার মামলা নং-০৩/৫৫ তারিখ ০৪/০৫/২০১৪,পেশ করার তারিখ নং- ০৬/০৫/২০১৪,চলমান আছে। সময়ঃ রাত ৮.৩০ মিনিট, থানা হতে প্রেরণ-০৭/০৫/২০১৪, নারী শিশু মামলা নং- ১৩৪৩/২০১৪, তারিখ- ২৩/০৯/২০১৪, নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল নং-০১। উক্ত মামলায় গ্রেপ্তার করে নিম্নে ধারাবাহিকভাবে সোন এরেস্ট করে দেয়। নারী শিশু মামলাটি বাদিনী ধার্য তারিখে কোর্টে জবানবন্দিতে দেয়, উক্ত মামলা বাদিনী করে নাই। আসামী কোর্টে উপস্থিত থাকা সত্বেও বাদিনী আসামীকে চিনে না, মাননীয় জজ সাহেব বাদিনীকে উল্টে কারাগারে পাটান। কোতোয়ালী থানা, মামলা নং-১০(০১)২০১৫,জিআর নং-১০/০১। চন্দনাইশ থানা, মামলা নং-১৩ (০১)১৫, জিআর নং-১৩/১৫,কর্ণফুলী থানা, মামলা নং- ৪ (০২)২০১৫,পাঁচলাইশ থান, মামলা নং- ১৫ (০২)১৫,জিআর নং-৩২১৫, বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪,কর্ণফুলী থানা, মামলা নং- ১৬ (১২) ২০১৮, তারিখ-(মিথ্যা মামলা প্রমান হওয়ায় সিএস নট সেন্টআপ হয়। মিথ্যা মামলা প্রমান হওয়ায় নট সেন্টআপ হয়। মিথ্যা মামলা প্রমান হওয়ায় নট সেন্টআপ হয়। এফআইআর এজাহারে নাম নাই, মোট আসামি-২৬ জন, নবাব খানের নাম-২৬ নাম্বার, সোন এরেস্ট। চাঁদা ও জমি দখল: ১০/১২/২০১৮,বাকলিয়া থানা। চট্টগ্রাম জেলার বাহিরে মামলা: ঢাকায় ধামরাইল থানার মামলা নং- সি আর-১৭৬। ফলাফল: খালাস । আমিনপুর থানা, পাবনা, মামলা নং-সি আর-৪১/২০২০। খালাস (মিথ্যা মামলা হতে অব্যহতি)সূত্র নং: এসসি/পরি: ৭৯/২০২৪-২৫।
এ বিষয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধানকালে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধি,ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে তারা জানান, এই জমি নবাব খানদের। হাসিনা সরকার আমলে ইউনাইটেড গ্রুপ দখল করে নিয়ে ইন্ডাষ্ট্রি করেছে। সাবেক ভুমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান এই ঘটনার নায়ক। এখন এটির দেখভাল করছেন রাজা মিয়া।
আবেদনকারী নবাব এন্ড কোম্পানীর সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ নবাব খান বলেন, ভুমিদস্যু সাইঢুজ্জামান ও রাজা মিয়া গং আমার বৈধ সম্পত্তি ও শিল্প স্থাপনা ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের মাধ্যমে অবৈধপথে গায়ের জোরে দখল করে নিয়েছে। আমি আইনের আশ্রয় নিতে পারি এই ভয়ে আমার নামে ১৫/২০ টা মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে নিংশেষ করে দিয়েছে। মানুষের অভিশাপ ও খোদার গজবে ফ্যাসিষ্ট হাসিনার পতন হওয়ায় আশা করেছিলাম খুব দ্রুত আমি আমার সম্পত্তি ফিরে পাবো। কিন্তু ফ্যাসিষ্ট হাসিনার পতন হলেও কার দোসররা এখনো ক্ষমতায় রয়েছে। যে কারণে আমি আমার সম্পত্তি উদ্ধার করতে পারছি না। ভুমিদস্যু রাজা মিয়া এখন তার বিশাল অস্ত্রধারি বাহিনী নিয়ে এলাকায় চলাফেরা করছে। তাই আমি মাননীয় প্রধান উপতেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছি। এখন অপেক্ষায় আছি ন্যায় বিচার পাওয়ার।