
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন -এ নানাবিধ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (প্রধান কার্যালয় ঢাকা) থেকে রবিবার একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এনফোর্সমেন্ট টিম কর্তৃক বিসিইসি হতে IPO অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে কোম্পানি কর্তৃক আবেদনের তালিকা, তাদের দাখিলকৃত প্রসপেক্টাস, নিরীক্ষা রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ডকুমেন্টস এবং চূড়ান্ত অনুমোদন তালিকা যাচাই করা হয়।
পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, কোম্পানি কর্তৃক দাখিলকৃত fabricated earnings and assets বিবরণী ও window dressing -এর মাধ্যমে তৈরিকৃত balance sheet -এর বিপরীতে IPO অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অনেকক্ষেত্রে ডিএসই -এর সুপারিশ ও অবজারভেশন বিবেচনা করা হয়নি- যা ব্যাপক অনিয়মের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। এছাড়া প্রাইভেট প্লেসমেন্ট জালিয়াতি ও বাণিজ্য, অধিকমূল্যে শেয়ার প্রাইস নিয়ে মার্কেটে প্রবেশ ও অল্প সময়ে শেয়ার বিক্রয়, প্রাইসের দ্রুত অবনমন -এর প্রেক্ষিতে কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি মর্মে টিমের নিকট পরিলক্ষিত হয়েছে। টিম আরও প্রত্যক্ষ করে, দুর্বল কোম্পানিগুলোকে অবৈধভাবে অনুমোদন দেয়ায় ক্যাপিটাল মার্কেট প্রবেশের অল্পদিনেই তাদেরকে low performing কোম্পানি হিসেবে z-category ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও জালিয়াতির মাধ্যমে চার্টার্ড একাউন্টেন্ড কর্তৃক প্রস্তুতকৃত window dressed balance sheet ও fabricated earning রিপোর্ট ও ইস্যু ম্যানেজার কর্তৃক তৈরিকৃত overvalued কোম্পানি প্রোফাইলের প্রেক্ষিতে অনিয়মের আশ্রয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক IPO -এর অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে মর্মে টিমের নিকট প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়। প্রাপ্ত অনিয়মসমূহের বিষয়ে টিম কর্তৃক প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র পর্যালোচনাপূর্বক কমিশন বরাবর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে হবে বলে জানানো হয় দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে।
দুদক আরো জানায়, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রাম -এ বিল ভাউচার ছাড়াই প্রায় সাড়ে দশ লাখ টাকার ভ্রমণ বিল তুলে নেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১) হতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনাকালে এনফোর্সমেন্ট টিম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রাম -এর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার দপ্তর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তার দপ্তর এবং বিভাগীয় সংস্থাপন কর্মকর্তার দপ্তরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রাদি যাচাই-বাছাই করে এবং আংশিক রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সকল চাহিত রেকর্ডপত্রাদি সংগ্রহপূর্বক পর্যালোচনান্তে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।