
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ান আদর্শ স্কুলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম শিকারী। পেশায় শিক্ষক হলেও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে পাহাড় সমান। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থেকে স্কুলের টাকা লুটপাট করেছেন তিনি। সেই সাথে ক্ষমতার অপব্যবহার করে করেছেন নানা রকমের অনিয়ম ও দুর্নীতি।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপের টাকাসহ স্কুলের বিভিন্ন খাতের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে ওই বছরের জানুয়ারিতে স্কুল এবং এলাকা ছেড়ে উধাও হয়ে যান এই শিক্ষক। এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর জানাজানি হয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ধার/লোন নিয়েছেন প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা। সেই সাথে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষজনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমেও মোটা অংকের টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে খোদ নিজ প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ দিয়ে তার কাছ থেকেও ঘুষ নিয়েছেন প্রায় তিন লক্ষ টাকা।
ওই বছরের ফেব্রুয়ারীর ১৩ তারিখে পর্যালোচনা করে অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে ডিএমপির খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন স্কুলের তৎকালীন সভাপতি নার্গিস রহমান। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীদের মিলিয়ে তার নামে আরো চারটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে খিলগাঁও থানায়।
সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে জানতে চাইলে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আহাদুল ইসলাম বলেন, ইব্রাহিম শিকারী আমাদের স্কুলের সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ব্যক্তিগত কারণে উনি গত বছরের জানুয়ারির প্রথম দিক থেকে স্কুলে অনুপস্থিত। বিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে উনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য উনার স্থায়ী ঠিকানায় তিন তিনবার ডাকযোগে পত্র দেওয়ার পরেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। সেই সময়ে জাতীয় পত্রিকায় উনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। তবুও উনি কোন প্রকার যোগাযোগ না করার ফলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উনাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
স্কুলের নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ঢাকা জেলা প্রশাসকের শিক্ষা শাখা থেকে ইব্রাহিম শিকারীর দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তার কে গত বছরের জুন মাসের ১১ তারিখে প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হয়।
সাময়িক বরখাস্তের পর একপর্যায়ে ৩১শে আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখে ইব্রাহিম শিকারী নিজেই তার বিরুদ্ধে আনীত বেশ কিছু অভিযোগ স্বীকার করে স্কুলের কাছে তার পাওনাদি বুঝে পাওয়ার স্বার্থে স্ব-ইচ্ছায় স্কুলের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ারও অঙ্গীকার করেন। এবং স্কুল থেকে আত্মসাৎ করা টাকার একটি অংশ হিসেবে ২ লক্ষ ১৮ হাজার টাকার একটি চেক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রদান করেন।
কিছুদিন যাবত এলাকার কিছু মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সহায়তায় এলাকার প্রভাবশালী মহলকে নানা কৌশলে ম্যানেজ করে ইব্রাহিম শিকারী আবার তার আগের কর্মস্থলে ফিরতে চান বলে অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক।
এসব বিষয়ে জানতে ইব্রাহিম শিকারীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে আর্থিক অনিয়মের কথা স্বীকার করে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার বলে জানান। পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান বিশেষ একটি মহলের চাপে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন।