
খুলনায় টানা বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। এদিকে বৃষ্টিপাতে শহরসহ উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ী। ঘরবাড়ী তলিয়ে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে অনেক পরিবারের। রাস্তা ও ঘরে পানি উঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত এক সপ্তাহের দিন-রাতের টানা বৃষ্টিপাতে খুলনা শহর ও এর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এছাড়া বুধবার ভোর থেকে এখন পর্যন্ত একটানা আবার কখনও কখনও থেমে থেমে হালকা-মাঝারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে ।
ওয়ার্কশপ মালিক মোঃ মাহাবুব হাওলাদার বলেন, বৃষ্টিতে কোন কাজ কর্ম নেই, তাই অলস বসে থাকতে হচ্ছে। কাজ না থাকলে আয় হবে কিভাবে আর সংসারও চালাবো কেমন করে।
দুধ ব্যবসায়ী সুলতান ফকির বলেন, পাশের উপজেলা ডুমরিয়া থেকে দুধ এনে শহরেরবিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে থাকি, কিন্তু বৃষ্টিতে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে কষ্ট হচ্ছে।
সামছুর রহমান রোডের বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে রাস্তায় ও বাড়ীতে হাটুর নিচে পানি। রান্না ঘরে পানি ওঠায় পাঁচদিন ধরে রান্নাবান্না অন্যের বাড়ী থেকে করে আনতে হচ্ছে।
একই এলাকার সালমা বেগম বলেন, বৃষ্টিতে ঘরে পানি উঠায় কিছুক্ষণ পরপর পানি ছিটতে হচ্ছে, ঘরে রান্নাসহ ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা রাসেল মৃধা ও রাব্বি হোসেন বলেন, রাস্তার হাটু পানি ভেঙ্গে আমাদেরকে বাড়ীঘরে ও বাজারে যেতে হয়। আর অফিসে যেতে কাপড়চোপড় নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই সামান্য বৃষ্টিতে আমরা জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে আসছি। রাস্তা ও ড্রেন কোনটাই নেই, রাস্তা দেখলে মনে হয় যেন খাল।খালিশপুর বি.আই.ডি.সি রোড দেখলে ভমনে হবে না যে এই রাস্তা খালিশপুর শিপ্লাঞ্চালের প্রধান সড়ক।দীর্ঘদিন এই সড়কের বেহাল অবস্তা। এখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এদিকে বৃষ্টিপাতের কারণে বন্ধ রয়েছে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত তিনটি সারবাহী বিদেশী বানিজ্যিক জাহাজের কাজ। বৃষ্টিতে সার ওঠানামা ও পরিবহণের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে বাকী ৬টি বিদেশী জাহাজের কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বন্দর ব্যবহারকারী এইচ,এম দুলাল ও মোঃ মসউর রহমান বলেন, ভিজে নষ্ট হওয়ার আশংকায় সারবাহী জাহাজের কাজ বৃষ্টিতে বন্ধ রাখা হয়। আর কয়লা, মেশিনারীসহ অন্যান্য জাহাজের কাজ বেশি বৃষ্টিতে সাময়িক বন্ধ থাকে, বৃষ্টি কমলে আবারো শুরু করা হয়। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগের ষ্টাফ সৈকত বর্মন বলেন, বৃষ্টিপাতে বন্দরে জাহাজের স্বাভাবিক কাজ কর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট সঞ্চালনশী মেঘমালা সৃষ্টি হওয়ায় মঙ্গলবার মোংলা বন্দর তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করে আবহাওয়া অফিস। এরপর লঘুচাপের সৃষ্টি হওয়াতে মঙ্গলবার ও বুধবার দিন-রাতে সমানে ও বৃহস্পতিবার ভোর থেকে টানা বৃষ্টিপাত বয়ে যাচ্ছে খুলনা ও মোংলা বন্দরসহ সংলগ্ন সাগর ও সুন্দরবন উপকূলে। তবে এমন পরিস্থিতি আরো আগামী তিনদিন ধরে অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন খুলনা আবহাওয়া অফিস।