
রাঙামাটিতে চাঁদা না-পেয়ে মব সৃষ্টি করে ও মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি ঘর দখলের ঘটনায় সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন নির্যাতিত (মা)মনিকা আক্তার।নিজের অসহায়ত্বের কথা জানাতে আজ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মনিকা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, আমার পিতার নাম ফারুক হোসেন, মাতা: মায়া বেগম। আমি পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কলেজ গেইট, আমানতবাগ এলাকার বাসিন্দা। গত কিছু বছর ধরে আমি এবং আমার পরিবার একের পর এক রাজনৈতিক ও সামাজিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। আমার সাবেক স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমের কাছ থেকে পাওয়া বাড়ি, যা আমি তার কাছ থেকে দানপত্রের মাধ্যমে পেয়েছিলাম, তা বর্তমানে একদল অসৎ রাজনৈতিক নেতাদের ষড়যন্ত্রের শিকার। শুরু হয় বাড়ি দখল এবং অগ্রিম চাঁদা দাবির পাঁয়তারা। এই চাঁদাবাজরা আমার বাড়ি জোরপূর্বক দখল করে নেয় এবং আমাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়।
এই বছরের ২৭ মে, আমি আমার ছেলে-মেয়ে সহ রাঙামাটির বাড়িতে গিয়ে রেজিস্ট্রি করার জন্য উপস্থিত হই। সেসময়, বিএনপি’র কিছু নেতৃবৃন্দ তাদের অপতৎপরতার অংশ হিসেবে আমার সাবেক স্বামীর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমার বাসায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে। সেলিনা আক্তার নামে এক নারী মিথ্যা নাটক তৈরি করে এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে থাকে।
এই ঘটনাটি শেষে, পুলিশ আমার ছেলেমেয়ে সহ আমাকে উদ্ধার করে এবং থানায় নিয়ে আসে। একদিন থানায় থাকার পর, চাপের মুখে পুলিশ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়। আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলির কোনো সত্যতা নেই, এটি একদমই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং শুধু আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শত্রুতা হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমি একজন মিডিয়া কর্মী হিসেবে আপনাদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। আমি দেশবাসীর কাছে আমার জীবনের সঠিক তথ্য তুলে ধরতে চাই, যাতে আমি এবং আমার সন্তানরা ন্যায্য বিচার পেতে পারি। আমার আবেদন প্রশাসনের সকল স্তরের কাছে: আমার বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক। আমার বাড়ি দখলমুক্ত করা হোক। আমি ও আমার পরিবার যেন নিরাপদ এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারি।
এই সমস্ত ঘটনায় আমি সঠিক বিচার ও মানবিক সহায়তার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের সহায়তা এবং মিডিয়ার ভূমিকার মাধ্যমে আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবো।