
মাত্র ৩ হাজার টাকার জন্য শেওড়াপাড়ায় দুই খালাকে হ*ত্যা করে আপন ভাগ্নে তাজ। ২০১৪ সালে আমার বাসা শনির আখড়া থাকতে বিআইডব্লিউটিএ’র অফিস গাড়ীতে যাতায়াতের সময় মাঝে মধ্যে মা-বাবার সাথে অফিসে যেত তাজ। তখন থেকেই ছেলেটি বেশ চঞ্চল ও কিছুটা উশৃংখল প্রকৃৃতির ছিল। আমার মেয়ে আর তাজ একই স্কুলে পড়তো।
তাজের মা-বাবা আমার সহকর্মী ছিলেন। তাদের ব্যবহার ছিল খুবই মার্জিত। দু-একবার ছেলেটির ব্যবহার সংশোধন করার জন্য তার বাবাকে বলেছিলাম।
আজকে এ বিষয়ে পুলিশ ব্রিফিংয়ে জানা যায়, রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় দুই বোনকে হ*ত্যার ঘটনায় সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দেখতে পাওয়া তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঠিক এভাবেই বর্ণনা দিচ্ছিলেন তাজের বাবার একজন সহকর্মী।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার তরুণ নিহত ব্যক্তিদের ছোট বোনের ছেলে। তাঁর নাম গোলাম রব্বানী ওরফে তাজ।
গতকাল রোববার গভীর রাতে ঝালকাঠির সদর উপজেলার আছিয়ার গ্রাম থেকে তাজ’কে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গত শুক্রবার বিকেলে বাড়ির ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় (সিসিটিভি) দেখতে পাওয়া ব্যক্তিটিই গোলাম রব্বানী তাজ। তিনি হ*ত্যার শিকার মরিয়ম বেগম ও সুফিয়া বেগমের ছোট বোনের ছেলে। তিনি তাঁর দুই খালাকে হ*ত্যা করেছেন।
গত শুক্রবার ৬৪৯ পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বাড়িটির দোতলায় একটি ফ্ল্যাটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাবেক কর্মকর্তা মরিয়ম বেগম (৬০) ও তাঁর ছোট বোন সুফিয়া বেগমকে (৫২) ছুরিকাঘাত, শিলনোড়ার আঘাতে হ*ত্যা করা হয়। সেদিন রাত ১১টার দিকে পুলিশ তাঁদের লাশ উদ্ধার করে।
তাজ তার মা-বাবার সঙ্গে রাজধানীর শনির আখড়ায় থাকেন। তিনি ঘটনার দিন পুরানো সাইকেল কেনার জন্য ৩ হাজার টাকার জন্য পশ্চিম শেওড়াপাড়ায় তাঁর বড় খালা মরিয়ম বেগমের বাসায় যান। সেখানে মরিয়মের আরেক বোন সুফিয়া বেগম থাকতেন। তাঁরা রব্বানীকে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় রব্বানী ছুরিকাঘাত ও শিলনোড়ার আঘাতে দুই খালাকে হ*ত্যা করেন। গোলাম রব্বানী ওরফে তাজ মুঠোফোনে আসক্ত। উগ্র আচরণের কারণে এর আগে তাঁকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয় বলেও জানা যায়।
তাজের বিষয়ে একাধিক প্রতিবেশীদের সাথে কথা হয়।তারা জানান, ছেলেটিকে ছোট বেলায় ঠিকমতো গাইডলাইন দিলে বা শাসন করলে আজকে হয়তো খু*নী হওয়া লাগতোনা।
প্রত্যেক মা-বাবাকে তার সন্তানের প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়া দরকার। বাচ্চা ছোট বলে কিছু বলা যাবেনা অথবা শাসন করা যাবেনা এই ধরনের চিন্তা ভাবনা ঝেড়ে ফেলতে হবে। নতুবা এতটুকু একটা ছেলেকে খু*নী হবার পেছনে মা-বাবার দায় থেকেই যায় ।