
মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী রাসেল মৃধা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময় ব্যবসায়ী রাসেলকে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করার আশ্বাস দিয়ে মাসোহারাভিত্তিক চাঁদা নিতেন কামরুজ্জামান জুয়েল।
ব্যবসায়ী রাসেল মৃধা বলেন, আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে চুক্তিভিত্তিক বালু ভরাটের কাজ করে থাকি। কামরুজ্জামান জুয়েলকে চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা করা এলাকায় কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসার কথা চিন্তা করে বিগত দিনে লক্ষাধিক টাকা জুয়েলকে চাঁদা বাবদ প্রদানে বাধ্য হয়েছি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কামরুজ্জামান জুয়েলের চাঁদাবাজীর সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
বর্তমানে কামরুজ্জামান জুয়েল ব্যবসায়ী রাসেলের কাছে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি “সুলতানাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়”-এর মাঠ বালু দিয়ে ভরাটের কাজ শুরু করেন রাসেল মৃধা করি। বিগত ১৩ এপ্রিল সকাল অনুমানিক ১২টার সময় কামরুজ্জামান জুয়েল ও তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসী ক্যাডার উক্ত বালু ভরাটের স্থানে উপস্থিত হয়ে রাসেলের কাছে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। চাঁদা না দেয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বিভিন্ন হুমকী-ধামকী প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী রাসেল বলেন, আমি আমার কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে কামরুজ্জামান জুয়েল আমার উপর ক্ষীপ্ত হয়ে আমার জান-মালের ক্ষতিসাধনে লিপ্ত হন। ১৫ এপ্রিল পৌনে ১টার সময় আমি ব্যক্তিগত কাজে মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে রাস্তায় অবস্থানকালে কামরুজ্জামান জুয়েল তার ৮-১০ জন সহযোগী নিয়ে আমার পথরোধ করে। এ সময় জুয়েলের দাবীকৃত মাসিক চাঁদা না দিয়ে কেন বালু ভরাটের কাজ অব্যাহত রেখেছি তার কারণ জানতে চান এবং আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে কামরুজ্জামান জুয়েল আমাকে এলোপাথারী চর-থাপ্পর, কিল-ঘুষি দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এসময় স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে কামরুজ্জামান হুমকী দিয়ে বলেন, ৫০ হাজার টাকা হারে প্রতি মাসে চাঁদা না দিলে আমাকে এলাকায় কোন ব্যবসাই করতে দিবেন না। আমাকে সাংগঠনিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করাসহ, আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করবে, এমনকি জান-মালের ক্ষতিসাধনও করবে।
স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, কামরুজ্জামান জুয়েল রাজনৈতিক পদকে চাঁদাবাজীর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, কামরুজ্জামানের চাঁদাবাজীর হাত থেকে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছেন না। রাসেলকে হুমকী দেয়া প্রসঙ্গে বলেন, প্রকৃত ঘটনা সকলেই জানেন, তাছাড়া ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী সিসি ক্যামেরায় সকল ঘটনার রেকর্ড রয়েছে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।