
আইসিটি মন্ত্রণালয়ের হাইটেক পার্ক সিটি উন্নযয়ন প্রকল্পের প্রায় হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে প্রকল্প পরিচালক এ কে এম ফজলুল হক বর্তমানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)তে সদস্য প্রকৌশল (যুগ্ম সচিব) এর দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এটি। এ কে এম ফজলুল হক এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, সরকারি অর্থ লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ যা আইসিটি মন্ত্রণালয় ও হাইটেক পার্ক সিটির উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সংঘটিত হয়ে়ছে। হাইটেক পার্ক সিটি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়ে়ছিল। এ কে এম ফজলুল হক এই প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার নামে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়ে়ছে যে, প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া, বরাদ্দ ও বাস্তবায়়নে স্বজনপ্রীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং অস্বচ্ছতা ছিল। প্রতিমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রীর সাথে ঘনিষ্ঠতা ছিল এই এ কে এম ফজলুল হকের তাই তিনি কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করতেন না। নিয়মকে অনিয়ম বানিয়ে় গড়েছেন দেশে-বিদেশে অঢেল সম্পদ ।
অনুসন্ধানকালে জানা যায়, জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকাকালীন সময়ে় বিভিন্ন প্রকল্প থেকে ১৫% কমিশন নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কমিশন ব্যবস্থা তার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হতো, সিন্ডিকেটের মূল হোতা এই – এ কে এম ফজলুল হক যা হাইটেক পার্ক সিটি প্রকল্পেও প্রভাব ফেলেছিল। ফাইভস্টার নামে পরিচিত একটি সিন্ডিকেট গঠন করে, পলক ও তার সহযোগীরা স্থানীয়় পর্যায়ে় বিভিন্ন সরকারি জমি দখল, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, নিয়ে়াগ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। জুনায়ে়দ আহমেদ পলকের অন্যতম সহযোগী এই এ কে এম ফজলুল হক। আওয়ামী লীগের সময় ও তার সম্পর্কে অভিযোগের পাহাড় ছিল। সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়ে়দ আহমেদ পলকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নিউজ করতে কেউ সাহস পেতো না।
যে সব প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে:
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অধীনে ৮৩৭ কোটি টাকার শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার (১১টি) প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত), ১ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকার জেলা পর্যায়ে আইটি/হাই-টেক পার্ক স্থাপন (১২ জেলায়) (প্রথম সংশোধিত), ৫৩৩ কোটি টাকার শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প, ৪৩১ কোটি টাকার বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-২-এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত), ৩৫৩ কোটি টাকার ডিজিটাল উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবন ইকো-সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প, ৭৪ কোটি টাকার বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল সেবা ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ (বিডিসেট) কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাকরণ শীর্ষক প্রকল্প, ১ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকার শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকার শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (১৪টি) প্রকল্প। দুর্নীতি দমন কমিশন এ সব প্রকল্পের ফাইল জব্দ করে তদন্ত শুরু করেছে। (চলবে)