
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় শ্বশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী লামিয়া আক্তার (২০) উপজেলার নদমূলা ইউনিয়নের চরখালী ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্বাস হাওলাদারের মেয়ে এবং রাকিব হাওলাদারের স্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৮ জুন রাতে তার শ্বশুর মিজান হাওলাদার (৫০) তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের চেষ্টা করেন। অভিযুক্ত মিজান হাওলাদার পার্শ্ববর্তী হেতালিয়া গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাম্মেল হাওলাদারের ছেলে।
লামিয়ার দাবি, ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। সেই সুযোগে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্বশুর মিজান হাওলাদার তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। তিনি আতঙ্কে পাশের বাড়িতে পালিয়ে যান এবং প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। পরদিন সকালে তার মা এসে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আরও জানায়, মিজান হাওলাদার পূর্বেও পিরোজপুর সদর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নে এক বিবাহিত নারীকে ধর্ষণ করেছিলেন। সেই ঘটনায়ও ভুক্তভোগী নারী তার স্বামীর সংসার হারান বলে দাবি করেন লামিয়া।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিজান হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন, লামিয়া তার স্ত্রী অর্থাৎ শাশুড়ির ট্রাঙ্ক থেকে দুটি স্বর্ণের আংটি ও নগদ পাঁচ হাজার টাকা চুরি করেছে। তার ভাষ্যমতে, ওই চুরির অভিযোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করতেই লামিয়া ধর্ষণচেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।
ঘটনার পর লামিয়া ব্র্যাক-এর ভাণ্ডারিয়া শাখার মানবাধিকার ও আইন সহায়তা কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্র্যাক অফিসার উজ্জ্বলা মণ্ডল।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, বিষয়টির সত্যতা উদঘাটনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।