
অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে কৃষকদের পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ, নতুন বস্তার পরিবর্তে পুরাতন বস্তা ক্রয়, গুদামে মজুদকৃত খাদ্যশস্য অন্যত্র বিক্রয়পূর্বক অর্থ আত্মসাতসহ নানাবিধ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রাম থেকে রবিবার একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম প্রথমে কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের ওসি (এলএসডি), এসআই, এএসআইসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে সদর উপজেলার নতুন রেলস্টেশন সংলগ্ন খাদ্য গুদামের অভ্যন্তরে অবস্থিত মোট ৮টি গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে। পরিদর্শনকালে উক্ত গুদামে মোট ১,১৭৬ (এক হাজার একশ ছিয়াত্তর) বস্তা চাল এবং ৫২১ (পাঁচশ একুশ) মেট্রিক টন ধানের ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও একাধিক খামাল কার্ড সংশ্লিষ্ট খামালে ঝুলানো অবস্থায় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দুদক।
পরিদর্শনকালে খামালে সংরক্ষিত চালের বস্তায় পোকাযুক্ত নিম্নমানের চাল পাওয়া যায়, যা আপাতদৃষ্টিতে অনুপযোগী মর্মে এনফোর্সমেন্ট টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়।
পরবর্তীতে এনফোর্সমেন্ট টিম কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন সদর খাদ্য গুদামের অপর একটি গুদাম পরিদর্শন করে। উক্ত পরিদর্শনকালে সেখানে ২,৪০৭ (দুই হাজার চারশ সাত) বস্তা খামাল কার্ডবিহীন চাল পাওয়া যায়, যার কোনো বৈধ হিসাব বা সংশ্লিষ্ট রেকর্ড তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে খাদ্য গুদামসমূহ সিলগালা করা হয়। অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্যাবলির প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

এছাড়াও নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা প্রদানকালে হয়রানি ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নওগাঁ হতে আজ একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম প্রথমে ছদ্মবেশে বহিঃবিভাগে আগত রোগীদের রশিদ প্রদান করা হচ্ছে কি না, সঠিকভাবে ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে কি না- তা যাচাই করে। এ সময় বহিঃবিভাগে সেবা নিতে আসা একাধিক রোগীর সাথে টিমের সদস্যরা কথা বলেন এবং সেবা গ্রহণে কোনো ধরনের হয়রানি বা সমস্যা হচ্ছে কি না তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে এনফোর্সমেন্ট টিম নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে এবং অভিযোগের বিষয়সমূহ এবং প্রাপ্ত অসংগতিসমূহ অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে। অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্যাবলির প্রেক্ষিতে টিম কর্তৃক কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানানো হয় দুদকের পক্ষ থেকে।
PR