
অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্য বৃদ্ধি করার অসৎ উদ্দেশ্যে আমদানিকারকদের দ্বারা লাইটার জাহাজ হতে দীর্ঘদিন পণ্য খালাস না করে নদী ও সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–১ -এর এনফোর্সমেন্ট টিম চট্টগ্রাম বন্দরে আজ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে টিম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে। একই সঙ্গে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ০৯-০৯-২০২৫ খ্রি. তারিখের স্মারক অনুযায়ী অনাপত্তি সনদ (NOC) ব্যতীত লোকাল এজেন্ট ও পণ্যের এজেন্টদের দ্বারা চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না-তা যাচাই করা হয়। এ বিষয়ে ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন), হারবার মাস্টার ও ডেপুটি কনজারভেটর দপ্তরের বক্তব্য গ্রহণ করা হয় এবং পণ্য পরিবহনে লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিষয়াবলি সম্পর্কে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নিকট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সংগৃহীত তথ্য, রেকর্ডপত্র ও বক্তব্য পর্যালোচনাপূর্বক এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানায় দুদক ।
এছাড়াও নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল–ভাউচার প্রস্তুত করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং হাসপাতালে আগত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানিসহ নানাবিধ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর হতে অপর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে নীলফামারী সদর হাসপাতাল হতে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিকভাবে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় হাসপাতালের মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয়, ফলে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে মর্মে এনফোর্সমেন্ট টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়। দুদক জানায় সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনাপূর্বক পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত টিম কর্তৃক কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এ দিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নির্ধারিত সিডিউল মোতাবেক কাজ না করার অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, পটুয়াখালী হতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা ও সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায় যে, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্র সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট থেকে ধোলাই মার্কেট পর্যন্ত প্রায় ১০ (দশ) কিলোমিটার সড়ক বাস্তবায়নের প্রকল্প অনুমোদিত হয়। এর মধ্যে অভিযোগে উল্লিখিত প্রায় ৫ (পাঁচ) কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট প্রায় ৫ (পাঁচ) কিলোমিটার সড়কের নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম একজন নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সড়কের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, মেকাডাম স্তর ও কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব পরিমাপ করে। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত তথ্য ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনাপূর্বক কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।