
আসন্ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন–২০২৫-কে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণা। বিভিন্ন প্যানেল তাদের প্রার্থী ঘোষণা করছে, পোস্টার–ব্যানার, পথসভা ও প্রচারণামূলক কর্মসূচিতে সরব হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। এমন সময়ে “ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান” প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী অপু মুন্সী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ তম আবর্তনের (২০২২–২৩ সেশন) শিক্ষার্থী।
অপু মুন্সী দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আন্দোলন, অধিকার ও সেবা–সংক্রান্ত দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবিতে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ–অসন্তোষ প্রকাশের একটি স্লোগান ঘিরে তাকে নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। “সব শালারা বাটপার, আর্মি হবে ঠিকাদার”— এই স্লোগানটি তৎকালীন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সামনে উচ্চারিত হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি নিয়ে পরে অপু মুন্সী স্পষ্ট করেন যে, দীর্ঘদিন দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ কাজের অগ্রগতি না হওয়া, অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাব—এসব বিষয়ে হতাশা থেকেই শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছিল; এটি কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে উদ্দেশ করে ছিল না।
বর্তমানে ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত “ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান” প্যানেল থেকে জকসু নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। প্যানেলটির নেতৃবৃন্দ জানান, যোগ্যতা, আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া নিয়ে ধারাবাহিক অবস্থান এবং সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে অপু মুন্সীকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। প্যানেলটির মতে, ক্যাম্পাসে নানা সংকট, দুর্নীতি, সেবা সংকট, হলে আসন বরাদ্দ, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস—এসব ইস্যুতে তারা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন–সংগ্রাম করেছে, আর এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়েছে।
অপু মুন্সীও নির্বাচনী প্রচারণায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন। তিনি জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে যোগাযোগ, শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, বিদেশি শিক্ষাবৃত্তির সুযোগ, আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও সেমিনারে জবিয়ানদের অংশগ্রহণ বাড়ানো—এসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চান।
এদিকে জকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হচ্ছে। বিভিন্ন প্যানেল তাদের কর্মসূচি, সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত সুবিধাগুলো তুলে ধরে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, প্রথমবারের মত জকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে বলে এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত, সাংগঠনিক, গবেষণা ও কল্যাণমূলক অধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টিকে তাই তারা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।